দেশে প্রথম হার্টের রিং পরাল রোবট

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৫ এএম

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হৃদরোগ চিকিৎসায় সর্বাধুনিক ‘রোবটিক এনজিওপ্লাস্টি’ প্রযুক্তির ব্যবহার করেছেন রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা রোবট দিয়ে সফলভাবে দুজন হৃদরোগীর হার্টে রিং পরিয়েছেন। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় রোবটিক প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

গত রবিবার এই দুই হৃদরোগীর প্রধান ধমনীতে বিনামূল্যে রোবটের মাধ্যমে রিং পরানো হয়। রোবটিক সার্জারির এই অস্ত্রোপচার করেন হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার ও তার বিশেষায়িত দল। এ চিকিৎসা পদ্ধতির উদ্বোধন করেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল হাসান মিলন ও কার্ডিলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. সালাউদ্দিন।

চিকিৎসকরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের ১৬০টি দেশে রোবটিক এনজিওপ্লাস্টি সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ভারতে রয়েছে ছয়টি সেন্টার। এসব সেন্টারে রোবট দিয়ে হার্টের রিং পরানো হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটাই প্রথম। বর্তমানে রোগীরা ভালো আছেন।

এ ব্যাপারে ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা রোবটটি এক মাসের জন্য এনেছি আমাদের অবকাঠামোতে খাপ খায় কি না সেটা দেখার জন্য। ওই রোবট কোম্পানি রোবটের সঙ্গে ১০টি ডিভাইস দিয়েছে। এসব ডিভাইস দিয়ে ১০ রোগীকে আমরা বিনামূল্যে রোবটের মাধ্যমে রিং পরাতে পারব। এটা সফল হলে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ সরকারকে অনুরোধ জানাবে রোবট কিনে দেওয়ার জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ওয়্যারলেসের মাধ্যমে সার্জারি করা হয়েছে। অর্থাৎ রোগী ছিল ভেতরে, আমরা ছিলাম বাইরে কন্ট্রোল রুমে। এরপর আমরা ওয়্যারলেস ছাড়াই করব। আমাদের লক্ষ্য হলো হাসপাতালের বাইরে থেকে কন্ট্রোল ইউনিট নিয়ে এনজিওপ্লাস্টি করা। এক্ষেত্রে আমরা হাসপাতালে থেকে রোবট দিয়ে দেশের যেকোনো প্রান্তে রিং পরাতে পারব।’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাথল্যাব থাকলেও জনবল নেই জানিয়ে ডা. প্রদীপ কুমার কর্মকার বলেন, ‘রোবট প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে সেসব হাসপাতালে রোবট দিয়ে হার্টে রিং পরানো যাবে। এতে রোগীদের ঢাকায় আসতে হবে না। সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাবে। এটা দেশের জন্য বিশাল অর্জন হবে।’

তিনি জানান, ফ্রান্সে তৈরি এ রোবটের দাম প্রায় ৫ কোটি টাকা। তিনি চীন ও ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। এখন তার টিম প্রস্তুত করছেন। জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ২০০ চিকিৎসক। তারা প্রশিক্ষণ পেলে সারা দেশে যেকোনো জায়গায় রোবটের মাধ্যমে সার্জারি করা যাবে।

রোবট দিয়ে হার্টের রিং পরানোর তিন ধরনের সুবিধা আছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, ‘প্রথম সুবিধা হলো হার্টের রিং পরানোর জটিল প্রক্রিয়াটি রোবটের মাধ্যমে খুব সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে করা যায়। অনেক সময় হার্টের রিং নিখুঁতভাবে পজিশন করার জন্য এক মিলিমিটার সামনে অথবা এক মিলিমিটার পেছনে নেওয়ার প্রয়োজন হয়। হাত দিয়ে করলে নিখুঁতভাবে এই কাজটি করা কঠিন হয়। কিন্তু রাবটের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে এটি সম্পন্ন করা যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত