পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত বলে ইংল্যান্ডের স্পিনার শোয়েব বশিরকে ভিসা দিচ্ছিল না ভারত। বাধ্য হয়ে দুবাই থেকে ফিরে আসতে হয়েছিল ইংলিশ দলের আনকোড়া বোলারকে। তাতে বিরক্ত হয়েছিলেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল তো ‘ভারতের গণতন্ত্র এত ক্ষুদ্র’ বলে মন্তব্যই করে বসেছিল। সেটা দেখেই যেন এই স্পিনারকে ভিসা দিতে বাধ্য হলো ভারত।
অবশেষে ভারতের ভিসা পেয়ে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যোগ দেবেন শোয়েব। ভিসা না তিনি ফিরে গিয়েছিলেন লন্ডনে। শোয়েবকে ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানানোয় ভারতের সঙ্গে ইংল্যান্ডের পাঁচ টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটে। ১৬ সদস্যের স্কোয়াডের মাত্র ১৫ জন ভারতে অবতরণ করেছিলেন। জগাখিচুঁরি এই সমস্যার সমাধানের জন্য বশিরকে ইংল্যান্ডের আবুধাবি প্রশিক্ষণ থেকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় লন্ডনে।
তবে বুধবার মধ্যাহ্নভোজের সময় ইসিবি নিশ্চিত করেছে যে চতুর্থ প্রচেষ্টায় অবশেষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। শোয়েবকে ভিসা দিতে রাজি হয়েছে ভারত।
এক টুইট বার্তায় ইসিবি জানায়, ‘শোয়েব বশির এখন ভিসা পেয়েছেন এবং এই সপ্তাহান্তে দলের সঙ্গে যোগ দিতে তার ভ্রমণ করার কথা রয়েছে। আমরা খুশি যে এখন পরিস্থিতির সমাধান হয়েছে।’
তবে ভিসা পেলেই সিরিজের প্রথম টেস্টেই অভিষেক হচ্ছে না বশিরের। দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তির শেষে তিনি থাকবেন বিশ্রামে। আর তার সতীর্থরা ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামবে সিরিজের প্রথম টেস্ট।
সমারসেটের এ অফস্পিনার অপ্রত্যাশিতভাবেই ডাক পেয়েছেন ইংল্যান্ড দলে। প্রথম শ্রেণিতে তার উইকেট সংখ্যা মাত্র ১০টি। তারপরও ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে তার দারুণ নৈপুণ্য ও বল ঘোরানোর মারাত্মক ক্ষমতা খুলে দিয়েছে জাতীয় দলের দরজা। বশিরের জন্ম সারে-তে হলেও তার পরিবারের আদি নিবাস পাকিস্তানে। দেশটির গণমাধ্যম ডেইলি মেইল সংবাদ প্রকাশ করেছিল, এ জন্যেই ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে বশিরকে।
গত নভেম্বরে ইংল্যান্ড লায়নসের অনুশীলন ক্যাম্পে নজর কাড়েন বশির। নিজের ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা কাজে লাগাতে পারেন স্পিন বোলিংয়ে। আরব আমিরাতে ১০ দিনের অনুশীলন ক্যাম্পেও বেশ ভালো বোলিং করেন বশির। হায়দ্রাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে স্পিনবান্ধব উইকেটই প্রত্যাশিত এবং সেখানে বশিরকে অভিষেক করানোর ভাবনা ছিল ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্টের।
