চলতি আইপিএলে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ১৫ বছর বয়সি তরুণ সেনসেশন বৈভব সূর্যবংশী। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে যখন সবাই মুগ্ধ, তখনই এক অদ্ভুত আইনি জটিলতায় পড়তে যাচ্ছে তার দল রাজস্থান রয়্যালস। বৈভবকে মাঠে নামালেই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন কর্নাটকের এক সমাজকর্মী।
কর্নাটকের সমাজকর্মীর এইচ. ভেংকটেশের দাবি, ১৫ বছর বয়সি বৈভবকে দিয়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলানো আসলে ‘শিশুশ্রম’-এর শামিল। একটি নিউজ ডিবেটে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, '১৫ বছরের একজনকে খেলিয়ে তাকে শোষণ করছে রাজস্থান। সে নিতান্তই শিশু। তাকে পেশাদার ক্রিকেট লিগে খেলানো হচ্ছে। এটা শিশুশ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা কীভাবে একজন নাবালককে এরকম একটি বড় লিগে খেলাচ্ছে? এই অল্প বয়সে ক্রিকেট খেলার পরিবর্তে তার উচিত পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া ও স্কুলে যাওয়া। এটা অন্য শিশুদের কাছে অত্যন্ত খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। শিশু অধিকার ও শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য রাজস্থান রয়্যালস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করব বা আইনি মামলা করব। বৈভবকে আইপিএলে খেলতে দেবেন না। এটা শিশুশ্রম। ওর এখন পড়াশোনা করা উচিত।'
ভারতের শিক্ষার অধিকার আইন অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের জন্য পড়াশোনা বাধ্যতামূলক। তবে পারিবারিক ব্যবসা কিংবা বিনোদন ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে ১৪ বছরের বেশি বয়সিদের কাজের সুযোগ রয়েছে, যদি না সেই কাজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়। যেহেতু বৈভবের বয়স ১৫, তাই আইনিভাবে তাকে খেলানো কতটা ‘শিশুশ্রম’ হিসেবে গণ্য হবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েই যাচ্ছে।
এর আগে বৈভবের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে তাকে ভক্তদের এড়িয়ে যেতে দেখা যায়। সেই ঘটনাতেও নেটিজেনদের বড় অংশ তার পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, একজন ১৫ বছরের কিশোরের ওপর পেশাদারিত্বের যে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে তার মানসিক অবস্থাও বিবেচনায় রাখা উচিত।
আইনি হুমকি এলেও মাঠের খেলায় বৈভব সূর্যবংশীর খ্যাতি ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বক্রিকেটে ছড়িয়ে পড়েছে। চলমান আইপিএল-এ এখন পর্যন্ত রাজস্থানের হয়ে ১০ ম্যাচে ৪০৪ রান করেছেন এই কিশোর। এর মধ্যে একটি সেঞ্চুরিও রয়েছে তার। ২৩৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করা এই বাঁহাতি ওপেনারকে নিয়ে ইতোমধ্যেই জাতীয় দলে ডাকার দাবি উঠেছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী জুনে আয়ারল্যান্ড সিরিজের মাধ্যমেই ভারতের জার্সিতে অভিষেক হয়ে যেতে পারে তার।
অবসরের পর অচেনা লুকে ভাইরাল সেই বিধ্বংসী 'পিপিতা'