ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের মূল্যায়নে উঠে এসেছে, ২০১১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটের বিমান হামলার অংশ নিয়ে কোপেনহেগেনের বিমানবাহিনী ১৪ জন বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল। ওই সময় লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফির সরকারকে উৎখাতে পশ্চিমা বিশ্ব যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছিল।
লিবিয়ার বৈধ সরকারকে উৎখাত করতে ২০১১ সালে ন্যাটোর নেতৃত্বে ১০টি দেশ যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছিল। আরব বসন্তের সূত্র ধরে ওই সময় লিবিয়াতেও গাদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ন্যাটো বিমান হামলা চালায়। এক পর্যায়ে গাদ্দাফি পশ্চিমাদের বিমান হামলায় নিহত হন।
২০১২ সালে ডেনিশ বিমান বাহিনী ওই বিমান হামলার তথ্য পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন তৈরি করে। এতে বলা হয়, ২০১১ সালে লিবিয়ার একটি এলাকায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়ে বেসামরিকদের হত্যা করেছিল। জাতিসংঘ, গণমাধ্যম এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বেসামরিক হত্যার দাবি সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে। অর্থাৎ প্রায় এক যুগ আগে চূড়ান্ত মূল্যায়ন তৈরি করা হলেও তা প্রকাশ করা হলো অনেকটা পরে। বেসামরিক লোকদের আত্মীয়-স্বজনরা এতদিন ক্ষতিপূরণের দাবিও করতে পারেনি।
ডেনিশ বিমানবাহিনী ২০১১ সালের ২০ জুন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ৪০ মাইল পশ্চিমে সুরমান শহরে বিমান হামলা চালায় এবং এতে নিহত হন ১২ জন। এতে এক পরিবারেরই পাঁচ শিশু এবং আরও ছয় সদস্য নিহত হন। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করে আসছিল, লিবিয়ার সরকারের এক চাকুরের মালিকানাধীন বাড়িটিতে এই হামলা হয় যা ছিল সম্পূর্ণ আবাসিক ভবন। কিন্তু ওই সময় ন্যাটো দাবি করে, হামলা হয় ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’। পর্যালোচনার পর ডেনিশ বিমানবাহিনীর নিজেদের দায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়। এ নিয়ে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সম্ভাব্য বেসামরিক হত্যা নিয়ে ডেনিশ সামরিক বাহিনীর দায় স্বীকারের ব্যর্থতার অর্থ হচ্ছে, জবাবদিহির মানদ- উন্নয়নের সুযোগ হারানো এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করা।’
