‘ইনডিয়া’ জোটে ভাঙনের সুর

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:২০ এএম

ভারতের রাজনীতিতে গত বছর ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে দেশের ২৮টি বিরোধী দলের জোট বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) শাসনকে কেন্দ্র থেকে উৎখাত করা। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের গণমাধ্যমগুলোর খবর, ৩০ জানুয়ারি বিহারের বৈঠকের আগেই ভেঙে যেতে পারে বিরোধী জোট। আবার পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গেও কংগ্রেসের সঙ্গে শরিকদের বোঝাপড়া হুমকির মুখে।

ভারতের গণমাধ্যমের খবর, কংগ্রেসসহ ২৮টি বিজেপিবিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইনডিয়ান ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স (ইনডিয়া)’ থেকে বের হয়ে যেতে পারেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী এবং সংযুক্ত জনতা দলের (জেডিইউ) প্রধান নিতিশ কুমার। ৩০ জানুয়ারি বিহারে ইনডিয়ার বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। অথচ সেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী যিনি জোট গঠনে অন্যতম বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই তিনিই এবার রণে ভঙ্গ দিচ্ছেন।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ গতকাল পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে। সূত্রের খবর, এ যাত্রা বিহারে পৌঁছানোর আগেই জোট ছাড়তে পারেন নিতিশ। বিজেপিবিরোধী প্রধান বিরোধী হিসেবে কংগ্রেসই হচ্ছে বিরোধী জোটের ভরকেন্দ্র। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে পাঞ্জাবে ক্ষমতাসীন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আম আদমি পার্টি (আপ) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেও আসন সমঝোতার কথা শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু গত দুদিনে জানা যায়, আপ ও তৃণমূল; কেউই কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যে বিজেপিবিরোধী ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে না। তৃণমূল নেত্রী মমতা বরং কংগ্রেসের ভূমিকায় নাখোশ। সম্প্রতি দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের একলা চলার বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুলের যাত্রা কর্মসূচির কথা নাকি তাকে অবহিতও করা হয়নি। এই আবহের মধ্যে আপের তরফ থেকেও কংগ্রেসের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কথা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। দুই দলের তরফেই কংগ্রেসের দিক থেকে অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের প্রধান লোকসভার সদস্য (এমপি) অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সঙ্গে মমতার তিক্ত সম্পর্কই রাজ্যটিতে জোটের পথে বাধা বলে মনে করেন রাজ্য কংগ্রেসেরই অনেক নেতা। ইনডিয়া শরিক উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা, শারদ পাওয়ারদের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পর্টি (এনসিপি) থেকে শুরু করে অনেক দলই তৃণমূল ও কংগ্রেসের সুসম্পর্কের ওপর জোর দেন। সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস। সর্বশেষ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে একটি ছাড়া চারটিতেই হেরেছে কংগ্রেস। জোটসঙ্গীরাই ওই সময় অভিযোগ করেছিল, কংগ্রেস ওই নির্বাচনগুলোতে শরিকদের অবজ্ঞা করেছে। পরে কংগ্রেস শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের বার্তা দেয়, যা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে। কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে বারবার ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার কথা বললেও তা মাঠের রাজনীতিতে দেখা যায়নি। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই নিতিশের ‘ইউটার্ন’ নেওয়ার খবর বাতাসে। তার এমন মতিভ্রমের নজির এর আগেও রয়েছে। বিজেপির সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায়ই তিনি সেই সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন সরকার গঠন করেন। বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), কংগ্রেস ও বামপন্থিদের সমর্থনে তিনি ২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রী হন। আরজেডি নেতা লালুর ছেলে তেজস্বী যাদব এখন নিতিশের সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী। শোনা যাচ্ছে, তিনি এ সরকার ভেঙে বিজেপির সমর্থনে নতুন সরকার গঠন করবেন। এরই মধ্যে তিনি রাজ্যের প্রধান শহর পাটনায় বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছেন। শেষমেশ তিনি অবস্থান বদল করলে তার রাজনৈতিক জীবনে এ নিয়ে মোট পাঁচবার শিবির বদল করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত