দেশে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট পদ্ধতিতে মৃত (ব্রেন ডেড) মানুষের কিডনি অন্য মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। ব্রেন ডেড ৩৮ বছর বয়সী মো. মাসুমের কিডনি কিডনি রোগে আক্রান্ত দুজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। মাসুম চার মাস ধরে কেবিন ওয়ার্ড আইসিউতে ভর্তি ছিলেন।
বিএসএমএমইউর প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুব্রত ম-ল বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মো. মাসুম রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের বড়গ্রাম একাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবার নাম মো. নূর মোহাম্মদ।
এই কর্মকর্তা জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় শুরু হয়। মাসুম আইসিউতে ব্রেন ডেথ হন। তার অভিভাবকরা তাকে ক্যাডাভার হিসেবে অঙ্গদানের সম্মতি প্রদান করেন। মাসুমের একটি অঙ্গ গ্রহণ করেন ঢাকার মহাখালীর ৪৯ বছর বয়সী মোসাম্মৎ তাহমিনা ইয়াসীন। এই ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রধান সার্জন অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল। ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের শুরুতে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ কেবিন ব্লকের ওটিতে আসেন। তিনি দাতা মাসুমের পরিবারের সদস্য ও গ্রহীতার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দেশবাসীর কাছে অঙ্গদাতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া চান। রাত ১২টা ১০ মিনিটে অপারেশন শেষ হয়।
দাতার অন্য কিডনি রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আরেকজনের দেহে প্রতিস্থাপন করা হবে। গ্রহীতা জাকির হোসেনের বয়স ৪৪ বছর। তিনি সাত বছর ধরে ডায়ালাইসিস করে আসছিলেন।
এর আগে গত বছর ১৯ জানুয়ারি বিএসএমএমইউতে প্রথমবারের মতো একজন মৃত মানুষের শরীর থেকে কিডনি নিয়ে তা অন্য দুজনের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সারাহ ইসলাম নামে ২০ বছরের এক তরুণীকে ১৮ জানুয়ারি ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেদিন রাতেই তার কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় দুজন নারীর শরীরে। এ ছাড়া সারাহর চোখের কর্নিয়া দেওয়া হয় আরও দুজনকে।
