আদালতে সুষ্ঠুভাবে আইন অনুযায়ী ড. ইউনূসের বিচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘আমি যতদূর এই মামলার কাগজপত্র দেখেছি। বিচারিক আদালতে সুষ্ঠুভাবে আইনের যে ধারা আছে, সে ধারা অনুযায়ী বিচার হয়েছে। আমি এর থেকে কিছু বলব না। তার কারণ হচ্ছে, যিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি নিশ্চয়ই আপিল করবেন। সেখানে কোনো প্রভাব করুক সেটা আমি চাই না।’
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্রমাগত হয়রানি বন্ধ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ জন সিনেটর। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার সকালে আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সিনেটরদের ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্রমাগত হেনস্তা এবং আরও বিস্তৃতভাবে আইন এবং বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে সরকারের সমালোচকদের টার্গেট করা হচ্ছে তা বন্ধ করার আহ্বান জানাতে আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) কাছে এই চিঠি লেখা হচ্ছে।’
তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের আদালত দ্বারা সাজাপ্রাপ্ত এবং অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ করে যারা সাজাপ্রাপ্ত তাদের সবাইকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেব। উদ্যোগ যেটা আছে সেটাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করব।’
সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনিসুল হক বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
নিজ নির্বাচনী এলাকা কসবা ও আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক গণসংবর্ধনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে সকালে আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে আখাউড়ায় আসেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে মন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাসেদুল কাওছার জীবন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া প্রমুখ।
এদিকে কসবায় আইনমন্ত্রী বলেছেন, আমি শুনতে পেয়েছি এখানে কিছু কিছু এলাকায় খড়ের মুড়িতে (খড়ের কুনজি) আগুন দেওয়া হচ্ছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই আপনারাও সজাগ থাকবেন যদি এ রকম লোক পান তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপনারা পুলিশকে খবর দেবেন। যারা আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের আমি তাদের জঙ্গল থেকে ধরে এনে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করব।
গতকাল সকাল ১১টায় উপজেলার বায়েক ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন; গত ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে সর্বশেষ জনসভা ও গণসংযোগ হওয়ার কথা ছিল এই বায়েক ইউনিয়নে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এবার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা বন্ধ করে দেওয়ায় বায়েক আসতে পারিনি। তাই পাস করে শপথ নিয়ে তৃতীয় বারের মতো আইনমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে সরাসরি আজ ঢাকা থেকে আপনাদের কাছে এসেছি। কারণ আপনারা আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।
আপনারা বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন আপনারা আমি আনিসুল হককে অনেক ভালোবাসেন। আমি কসবা-আখাউড়াবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকব।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূঁইয়া, কসবা পৌরসভা মেয়র এম জি হাক্কানী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী আজহারুল ইসলাম, রুহুল আমিন ভূঁইয়া বকুল, কসবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল আজিজ, কসবা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. এমরান উদ্দিন প্রমুখ। পরে মন্ত্রী সীমান্তবর্তী শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
