মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ সম্মিলন বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় এবারও প্রথম পর্বে অংশ নিচ্ছেন মাওলানা জুবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। আগামী ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বে তাদের অনুসারী মুসল্লিরা তিন দিনের ইজতেমায় অংশ নেবেন। আর ৯ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিন অংশ নেবেন মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম (সাদ গ্রুপ) অনুসারী মুসল্লিরা। দুটি পর্ব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যে ইজতেমা আয়োজক কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা সমন্বয়ের মাধ্যমে যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল শুক্রবার সকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ইজতেমায় আসা বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ময়দানের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে তৈরি করা হচ্ছে টিনের ছাউনি দিয়ে তার নিচে চটের ছাউনির প্যান্ডেল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুসল্লিরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এসব কাজ করে যাচ্ছেন। বিদেশি মেহমানদের উন্নত মানের অজু, গোসল ও বাথরুমের পৃথক ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তাদের রান্নার জন্য সরবরাহ করা হবে প্রাকৃতিক গ্যাস। বিশেষ করে বিদেশি মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তাদের পুরো ছাউনিটি আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেয় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বিশ্ব ইজতেমায় মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ান তাদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থাও থাকছে।
বিদেশি ছাউনির পূর্ব পাশে তৈরি করা হচ্ছে মূল বয়ান মঞ্চ। গতকাল মূল মঞ্চের কাছে গিয়ে দেখা গেছে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বেশ কিছু মুসল্লি মূল মঞ্চটি তৈরি করছেন। সুউচ্চ এ মঞ্চটিতে দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলেমরা বয়ান পেশ করবেন। আর সেসব বয়ান বিভিন্ন ভাষায় তরজমা করে প্রচার করা হবে এ মঞ্চ থেকেই। মঞ্চের চারপাশে লাগানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। ইজতেমা ময়দানের দক্ষিণ দিকে বেশ কিছু অংশে এখনো চটের ছাউনি দেওয়া হয়নি। আয়োজকরা বলছেন দুই-তিন দিনের মধ্যেই এগুলো প্রস্তুত হয়ে যাবে। ময়দানে মাইক ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। আর এসব কাজই হচ্ছে ইজতেমার মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে।
গতকালও ঢাকা ও আশপাশের জেলা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসল্লিরা দল বেঁধে এসে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করছেন ইজতেমার জন্য।
ইজতেমা ময়দানে কাজ করতে আসা মুসল্লি ইকরামুল ইসলাম বলেন, ইজতেমা মাঠের শূরা সদস্য মাহফুজ আহমেদ, হাজি সেলিম, ডা. আজগর, জামির আলী, মো. শহিদ ও মো. সিদ্দিকুর রহমান তাদের পরামর্শে ও তদারকিতে সার্বিক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এ বৃহৎ জমায়েতকে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সবার সঙ্গে সমন্বয় করছেন।
এদিকে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন করতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমার জন্য অস্থায়ী প্যান্ডেল নির্মাণ, তোরণ নির্মাণ, ওয়াচ টাওয়ার, বিভিন্ন সংস্থার জন্য কন্ট্রোল রুম নির্মাণ, অস্থায়ী রাস্তায় ইটের সলিং, অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ, ড্রেন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, ইজতেমা ময়দানে বৈদ্যুতিক বাতি ও তার সরবরাহ, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ, সিসি, ক্যামেরা বসানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সিটি করপোরেশন সূত্র আরও জানায়, ইজতেমার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন ও আইনশৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি নজরদারির লক্ষ্যে ময়দান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৬০টি সিটি ক্যামেরা স্থাপনের চাহিদা প্রদান করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, এ ছাড়া তারা ১৪টি মোবাইল টয়লেট, ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, ১টি মূল কন্ট্রোল রুম ও ১৪টি সাব-কন্ট্রোল রুমের চাহিদা দিয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকেও ১০টি ওয়াচ টাওয়ার ও একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের অনুরোধ রয়েছে, যা সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করছে।
মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য তুরাগ নদের ওপর ছয়টি ভাসমান সেতু তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে পাঁচটি তৈরি করছে সেনাবাহিনী ও একটি করছে বিআইডব্লিউটিসি। অন্যদিকে বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়াও ইজতেমা আয়োজক কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, এবার ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে সাত হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
