ইজারার রশিদ দিয়ে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৬ পিএম

কুমিল্লা দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে পণ্য উঠানামা ও ইজারার নামে সড়ক, মহাসড়কের যানবাহন থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ গৌরীপুর বাজার অংশের ইজারাদার আফসার উদ্দিনের নেতৃত্বে চাঁদাবাজি করছেন এক চক্র।

বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গৌরীপুর-হোমনা সড়কের চলাচলকারী পণ্যবাহী ছোট-বড় ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি থেকে গৌরীপুর বাজার ইজারার টোল আদায়ের নামে এসব চাঁদাবাজি চলছে।

জানা যায়, উপজেলা প্রশাসন শুধুমাত্র নির্ধারিত হারে গৌরীপুর অংশে ইজারা প্রদান করে। বাজার ইজারা নিয়ে গৌরীপুর এলাকায় বাস, ট্রাক, মিনিবাস, সিএনজি চলাচলের উপর টোল আদায় করছে বাজার ইজারা কমিটি। উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাজারের বাইরে যানবাহনের উপর কোনো ধরনের ইজারা প্রদান করা হয় নাই। ইজারার নামে চাঁদাবাজি করে প্রতিদিন লাখ লাখ লুটে নিচ্ছে একটি চক্র। এসব অবৈধ চাঁদাবাজিতে জড়িত রয়েছেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মো. আবদুল্লাহ ও গৌরীপুর বাজার বিটে ইজারাদার আফসার উদ্দিন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো প্রকার অনুমতি ও ইজরা না থাকার পরও রশিদ ছাপিয়ে পণ্য বোঝাই যানবাহন থেকে চাঁদা তুলছে চক্রটি। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে গতবছর তৎকালীন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিনুল হাসান চাঁদাবাজি বন্ধে ইজারাদারকে মৌখিকভাবে সতর্ক করেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গৌরীপুর-হোমনা সড়কের আঙ্গাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে থেকে ভুলিরপার, জনতা ব্যাংকের সামনে, জিয়ারকান্দি সেতুর দুই পাশসহ একাধিক স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ও ট্রলি থামিয়ে টোলের নামে টাকা তোলে কয়েকটি গ্রুপ। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভাগ হয়ে তোলা হয় টাকা। ওই সড়কে চলাচলরত পিকআপ, লরি, পণ্যবোঝাই চলমান ট্রাক থেকে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা করে বাজার ইজারার রসিদ দিয়ে টোলের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আঙ্গাউড়া পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে তিন শিফটে  ৭/৮ জন ২৪ ঘণ্টাই টোলের নামে চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভারদের সঙ্গে তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। চাঁদা আদায়ের জন্য সড়কের মাঝখানে চলন্ত গাড়ি থামানোর কারণে সব সময় যানজট লেগেই থাকে।

সুজন নামের এক পিকআপ চালক বলেন, সারাদিন যতবার যাবো ততবারই এই চাঁদা দিতে হয়। মালামাল নিয়ে হোমনা তিতাস গেলেও তারা গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি কিস্তিতে গাড়িটা কিনে নিজেই চালাই। এভাবে যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চাঁদাবাজি চলে তাহলে আমরা কার কাছে বিচার চাইব। 

টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নোমান মিয়া সরকার  বলেন, আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি পণ্য বা মালবাহী যানবাহন হতে মালামাল লোড-আনলোড ছাড়া অন্যান্য যানবাহন থেকে টোল আদায় করা যাবে না। এর বাইরে যদি কেউ এ ধরনের টোল আদায়ের চেষ্টা করে তাকে ধরে পুলিশে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান।

চাঁদাবাজির এই চক্রের প্রধান হচ্ছেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের মো. আবদুল্লাহ। হাট-বাজার, মহাসড়ক ও বাইপাস সড়কের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় এই চাঁদাবাজির অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। বাজারের বাইরে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে দেশ রূপান্তরকে মো. আবদুল্লাহ জানান, ‘ইজারার বাইরে আমরা কোর টাকা তুলি না।’

গৌরীপুর বাজার বিটে ইজারাদার আফসার উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার রশিদ কপি করে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি প্রশাসনকে অভিযোগ দিয়েছি।’

দাউদকান্দি  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আরফাতুল আলম  বলেন, আমরা খবর পেয়েছি গৌরপিুরে যানবাহন থেকে চাঁদা তোলা হয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত