সেতুতে উঠতে হয় বাঁশ-কাঠের সাঁকো বেয়ে

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৫ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে বাঁশ-কাঠের সাঁকো বেয়ে উঠতে হয় সেতুতে। অপরিকল্পিত খাল খননে সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়কে মাটি না থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে স্থানীয়দের। ২৫ বছর আগে নির্মাণ করা সেতুতে উঠতে এখন আলাদা বাঁশ-কাঠের সাঁকোই ভরসা। বর্তমানে নড়বড়ে ওই সাঁকো দিয়ে সেতুতে উঠে দুইপাড়ে যাতায়াত করছেন আশপাশের দুই গ্রামের মানুষ। এ কারণে চলাচলকারী লোকজন এ সেতুর নাম দিয়েছেন ‘অচল সেতু’।

জানা গেছে, সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইইনয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের শকুনিয়া খালের উপর ১৯৯৯ সালে চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চলাচলের সুবিধার্থে সেতু নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর প্রায় ৬০ লাখ ব্যায়ে সেতুটি নির্মাণ করেন। এ সেতুটি চরছান্দিয়া ও চরদরবেশ ইউনিয়নের দুই গ্রামের প্রায় দশ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ।

স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে সেতু নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে রেলিং ভেঙে খালে পড়ে যায়। পরের কয়েক বছরের মধ্যে সেতুর পিলারে পলেস্তারা খসে পড়তে থাকে। আস্তে আস্তে সেতুটি ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলেও সংস্কার কিংবা  নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যেগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সেতু হয়ে প্রতিদিন স্থানীয় নবীউল্যার বাজার, ইটালি মার্কেট, জমাদার বাজার, চানমিয়ার দোকান ও লেংগার দোকান এলাকায় যাতায়াত করছেন। সেতুর আশপাশে রয়েছে একাধিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা। সেতুর রেলিং না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা ভয়ে নিয়ে যাতায়াত করছে। স্থানীয়রা জানান, আগে সেতুর উপর দিয়ে সিএনজি, পিকাপ চলাচল করতো। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে এই সেতু ব্যবহার না করে কয়েক মাইল পথ পেরিয়ে বিকল্প সড়কে সেগুলো চলাচল করছে।

স্থানীয় গিয়াস উদ্দিন নামে ব্যক্তি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও উপায় না থাকায় দুই গ্রামের মানুষ সেতুটি ব্যবহার করছে। কিন্তু তিন বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে শকুনিয়া খালটি খননের সময় সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়কের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যার কারণে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি শুরু হয়। বাশঁ-কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরির পর চলাচল করা হলেও বর্ষার সময় পানির স্রোতে ভেঙে খালে তলিয়ে যায়। তাই প্রতিবার বাশঁ-কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে গ্রামবাসী। সেতুর উপরের পলেস্তারা খসে রড বের হয়ে আছে, রাতের বেলা চলাচলের সময় অনেকে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।

সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন বলেন, এ বিষয়টি কেউ আমাদের নজরে আনেনি। জনগণের দুর্ভোগ লাগবে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।। যত দ্রুত সম্ভব অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে নতুন সেতু করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত