তিন শেয়ারহোল্ডার মাসে বেতন নেন ২১ লাখ

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩০ এএম

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ১২০ জন প্রবাসী ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড গড়ে তোলেন। এর মধ্যে তিনজন শেয়ারহোল্ডার মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, কবীর রেজা ও আরিফ মোতাহার পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা তিনজন বিদেশে বসবাস করেও হোটেল থেকে মাসে ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৯ টাকা বেতন নিয়েছেন। এর সঙ্গে বছরে জনপ্রতি বোনাস নিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

দুদকের তথ্য বলছে, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন আহমেদসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে বসে বেতন গ্রহণ, প্রবাসী শেয়ারদের সমপরিমাণ শেয়ার না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও জমি ক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। কমিশন অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন মৃধাকে প্রধান করে দুই সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। টিমের অন্য সদস্য হলেন উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ। মোশাররফ হোসেন মৃধা পিআরএলে যাওয়ায় এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানকে। তিনি বর্তমানে অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন।

জানা গেছে, মোশাররফ হোসেন মৃধার নেতৃত্বাধীন অনুসন্ধান টিম ২০২১ সালের ২৩ আগস্ট কমিশনে তাদের অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড ২০০৬ সালের ১৪ নভেম্বর যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে। এ কোম্পানিতে লন্ডন বসবাসকারী ১২০ জন প্রবাসী বিনিয়োগ করেন। হোটেলটি ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে। তখন থেকে প্রতিষ্ঠানটির তিনজন উদ্যোক্তা মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, কবীর রেজা ও আরিফ মোতাহার পর্যায়ক্রমে কোম্পানির চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তারা প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক বেতন-বোনাসপ্রাপ্ত ছিলেন না।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৪ লাখ টাকা বেতন নিয়েছেন। এরপর ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মাসে ৬ লাখ টাকা করে বেতন নিয়েছেন। বেতনের টাকা ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের ব্যাংক হিসাব থেকে তার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে জমা হয়েছে। এ ছাড়া কবীর রেজা ও আরিফ মোতাহার নিয়মিত বেতন-বোনাস নিয়েছেন।

জানা গেছে, ঢাকা রিজেন্সি হোটেলের আর্থিক বিষয়ে একাধিকবার অডিট কার্যক্রম পরিচালনা করে মাওলা মোহাম্মদ অ্যান্ড কোং। প্রতিষ্ঠানটির ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, রিজেন্সি হোটেলের চেয়ারম্যান মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ মাসে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবীর রেজা ৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩৩ এবং শেয়ারহোল্ডার আরিফ মোতাহার ৭ লাখ ২৭ হাজার ৮৩ টাকা বেতন নিয়েছেন। এ ছাড়া তারা প্রত্যেকে বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বোনাস নেন। ১০ মাসে মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, কবীর রেজা ও আরিফ মোতাহার যথাক্রমে ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩০, ৭৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ এবং ৭৫ লাখ ১০ হাজার ৮৩০ টাকাসহ ২ কোটি ২৬ লাখ ৭ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন-বোনাস নিয়েছেন। এসব টাকা তাদের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে জমা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত