দেশে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৩ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়েছে। এর আগে এর চেয়ে বেশি করোনা রোগী ভর্তি হয়েছিল গত বছরের ৪ আগস্ট, ৭২ জন। সেদিন পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। এরপর গত ছয় মাসে দৈনিক ভর্তি রোগীর সংখ্যা পঞ্চাশের ঘর পার হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এ নিয়ে এ মাসের গত ২৯ দিনে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩১ জন। এ সময় মারা গেছে ৪ জন। এর আগের মাসের শেষ ২৯ দিনে রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬৪ জন ও মৃত্যু ছিল শূন্য। সে হিসেবে গত মাসের তুলনায় এ মাসে রোগী প্রায় সাড়ে চার গুণ বেশি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে (৪র্থ সপ্তাহ, ২২-২৮ জানুয়ারি) তার আগের সপ্তাহের (তৃতীয় সপ্তাহ, ১৫-২১ জানুয়ারি) তুলনায় রোগী ৫১ শতাংশ ও পরীক্ষা ৯ শতাংশ বেড়েছে। অবশ্য তৃতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় সপ্তাহের তুলনায় রোগী ১৮ শতাংশ ও মৃত্যু ৫০ শতাংশ কমেছিল।
গত সপ্তাহে রোগী ভর্তি হয়েছে ২৪০ ও মারা গেছে ১ জন। তার আগের সপ্তাহে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ১৫৯ জন ও মৃত্যু ছিল একজনের।
দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৫১ জন ও মারা গেছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।
সপ্তাহে ডেঙ্গু রোগী কমেছে ১৬% : গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৬ শতাংশ কমেছে। গত সপ্তাহে রোগী ছিল ১৫৩ ও তার আগের সপ্তাহে ১৮৩ জন। এর আগে গত তিন সপ্তাহ ধরেই ডেঙ্গু রোগী কমছে। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে (১৫-২১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় সপ্তাহের তুলনায় ৩৭ শতাংশ ও প্রথম সপ্তাহের তুলনায় দ্বিতীয় সপ্তাহে ২৩ শতাংশ কমেছিল।
গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় মৃত্যু কমেছে শতভাগ। আগের সপ্তাহে ৭ জন মারা গেলেও গত সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। রোগীর মতো ডেঙ্গুতে মৃত্যুও তিন সপ্তাহ ধরেই কমছে। তৃতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় সপ্তাহের তুলনায় ৭৫ শতাংশ ও দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথম সপ্তাহের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকায় ও ৮ জন ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে এ মাসের গত ২৯ দিনে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে রোগী ৬৭২ ও ঢাকায় ৩৪৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। এ নিয়ে টানা আট দিন মৃত্যুশূন্য দেশ। এ বছর মারা গেছে ১৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৮ জন ও ঢাকার বাইরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
এ বছর রোগীর ৬৫ শতাংশ বা ৬৫৯ জন পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ বা ৩৬১ জন নারী। কিন্তু নারীরা মারা গেছে ৯ জন, যা মৃত্যুর ৬৪ শতাংশ এবং পুরুষ মারা গেছে ৫ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩৬ শতাংশ।
