কলেজছাত্রী স্নেহা হত্যা 

আসামিদের গ্রেপ্তারসহ সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:১৪ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ প্রিপারেটরী কলেজের একাদশ শ্রেণির ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার স্নেহা হত্যার মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার করে মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন করে ন্যায় বিচারের দাবি করেছেন নিহতের মা নাজনীন নাহার। 

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন। 

নাজনীন নাহার বলেন, তার মেয়ে হাজারীবাগ থানাধীন নিমতলা এলাকায় কোচিং সেন্টারে কোচিং করতো। প্রতিদিন বিকালে কোচিং যেত এবং কোচিং শেষে বাসায় ফিরে আসতো। গত বছরের ৫ জুন বিকেলে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় স্নেহা। কোচিং শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসায় ফিরে না আসায় আমার মা শাহিনুর সামিয়ার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে। কিন্তু তার মোবাইল রিসিভ না করে বারবার কেটে দেয়।

পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে আমার মোবাইলে অজ্ঞাতনামা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে বলে যে আপনার মেয়ের নাম কি স্নেহা? তখন আমি হ্যা বলি। তখন ওই ব্যক্তি বলেন, যে আপনার মেয়ে অটোরিকশা থেকে পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হয়েছে। তাকে শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি হাসপাতালে আসুন। 
খবর পাওয়ার পর আমার মা-কে সংবাদ জানাই এবং দ্রুত মেডিকেলে যেতে বলি। আমরা শিকদার মেডিকেলে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে আমার মেয়েকে দেখতে পাই। এ সময় আমরা কান্নাকাটি করতে গেলে আমার মাকে দ্রুত ওই অ্যাম্বুলেন্সে তুলে শ্যামলীস্থ নিউরোসাইন্স হাসপাতালের দিকে যায়। এরপর আমার মা আমাকে ফোন করে সেখানে যেতে বলেন। এই সময় আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই হাসপাতালে দিকে রওয়ানা হই। পরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে আমার মেয়েকে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই। 

এ সময় সেখানকার জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক জানান, আমার মেয়ে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছে। পরে আমার মেয়েকে দেখে তার কপালে ফুলা কালো দাগ, রক্তাক্ত অবস্থায় ফুলে উঠা নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া, মুখ দিয়ে লালা বের হচ্ছে, কানে কালো দাগ, দুই হাতের কজ্বিতে কালো দাগ, পেটের ডান পাশে দাগ ও বাম পাশে ছিলে যাওয়াসহ পুরো শরীরের নীলাফুলা অবস্থা। 

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় গত বছরের ৭ জুন ধানমন্ডি থানায় রায়হান (২১) সহ অজ্ঞাত নামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করি। পরবর্তীতে জানা যায়, আমার মেয়েকে রায়হান তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলযোগে ধানমন্ডি ১২/এ রোডস্থ ইউডা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের সামনে দিয়ে চালিয়ে যায়। সে তার অজ্ঞাতনামা সহযোগিদের সহায়তায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্নেহাকে হত্যা করেছে। আর তার সহযোগী শায়লা আমার মেয়ে স্নেহাকে ডেকে নিয়ে তাহসিনদের বাসার ছাদের উপরে যায়। এসময় সেখানে ছাদের উপরে  রায়হান, শায়লা, মো. তাকসিন, জাবেদ ও স্নেহাসহ মোট ৫ জন ছিল। যা তাদের মোবাইল ফোনে এবং ম্যাসেঞ্জারে প্রমাণ রয়েছে। 

স্নেহার মা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পূর্বেই আমার মেয়েকে রায়হান হত্যা করতে পারে মর্মে উক্ত বিষয়ে শায়লা অপর সহযোগী আসামি কবিতা ও ফারিসা এবং তাহসিনদেরকে অবগত করা হলেও তারা হত্যাকাণ্ডে পূর্বাভাস সম্পর্কে জানা সত্বেও আমাকে কিছু অবগত করেনি। আসামিরা আমার মেয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত। যা আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করি। তারপরও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসছে না। এখন আমার একমাত্র মেয়ের হত্যাকাণ্ডটি তদন্ত কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। যা মোটেও কাম্য নয়। মামলার সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত থেকে বঞ্চিত  হচ্ছি। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগ্রেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন। 

এমতাবস্থায় মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তার করে মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন করে ন্যায় বিচারের দাবি করছি। এছাড়া মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডিএমপি কমিশনারের দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। 

নিহত সামিয়া আক্তার স্নেহা খুনের সঙ্গে যারা জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারপূর্বক ন্যায় বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও র‌্যাবের ডিজিসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এসআই নাজির এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কলেজ ছাত্রী নিহতের ঘটনায় এখনও ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসেনি। রিপোর্ট পাওয়ার পরই জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত