রপ্তানির প্রধান বাজারগুলোতে তৈরি পোশাকের রপ্তানি ও চাহিদা কমে যাওয়ার সময়ে নগদ সহায়তার হার কমানোর সিদ্ধান্ত শিল্প ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। এটি বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভের নিম্নমুখী প্রবণতা ও ব্যালান্স অব পেমেন্টে যে চাপ রয়েছে, তা আরও বাড়িয়ে তুলবে। প্রচলিত নগদ সহায়তার হার ও কাঠামোতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা মোটেও সহায়ক ও সময়োপযোগী নয়, বরং এটি শিল্পে অনাকাক্সিক্ষত ঝুঁকি ও বিপর্যয় ডেকে আনবে।
গতকাল বুধবার বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মান্নান (কচি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির বিপরীতে রপ্তানি প্রণোদনা বা নগদ সহায়তাবিষয়ক একটি সার্কুলার জারি করেছে, যার মাধ্যমে প্রচলিত নগদ সহায়তার হার ও কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে পাঁচটি প্রধান রপ্তানি পণ্যের ওপর নগদ সহায়তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পণ্যগুলো হলোÑ টি-শার্ট, সোয়েটার, নিটেড শার্ট, পুরুষদের আন্ডার গার্মেন্ট, এবং ওভেন ট্রাউজার ও জ্যাকেট। বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই পাঁচটি পণ্যের রপ্তানি মূল্য ছিল ২৫ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট পোশাক রপ্তানির ৫৫ দশমিক ২২ শতাংশ। এই পণ্যগুলো সামগ্রিক প্রণোদনা ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়ায় মূলত এসব পণ্য রপ্তানিকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো কোনো প্রণোদনাই পাবে না। মোট পোশাক রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬০ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শ্রেণির।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডব্লিউটিওর বিধান অনুযায়ী এই পাঁচটি পণ্যের ওপর নগদ সহায়তা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে ডব্লিউটিও কমপ্লায়েন্ট পদ্ধতিতে বিকল্প প্রণোদনা প্রবর্তনের বিষয়ে সার্কুলারটিতে কোনো উল্লেখ নেই। যদিও অনেক মধ্যম আয়ের দেশ তাদের শিল্পের জন্য সরাসরি প্রণোদনা না দিয়ে বিকল্প প্রণোদনা দিয়ে আসছে। বিকল্প প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি আমাদের দেশেও সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ প্রচলিত ব্যবস্থা কর্তন শিল্প ও অর্থনীতির জন্য সহায়ক পদক্ষেপ নয় বলে মনে করে বিজিএমইএ।
নতুন বাজারে প্রণোদনা বাদ দেওয়া প্রসঙ্গে এস এম মান্নান (কচি) বলেন, আমরা জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রধান যে তিনটি অপ্রচলিত বাজারে ভালো করছি, অথচ রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন বাজারের রপ্তানি প্রণোদনাটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে এই তিনটি বাজারে আমাদের পোশাক রপ্তানি ছিল ৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা আমাদের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৮ শতাংশ। এই বাজারগুলো বাদ দেওয়ার ফলে সেখানে আমাদের রপ্তানি বিপর্যস্ত হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে আমরা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির চাপে আছি তখন প্রণোদনা কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে পোশাক খাতে প্রচলিত প্রণোদনার প্রায় ৭০ শতাংশ কর্তন করা হয়েছে। যেখানে চলতি অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলারের মাধ্যমে সব প্রণোদনার হার ও কাঠামো ঘোষণা করে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো প্রকার পূর্ব আলোচনা ছাড়া হঠাৎ এ রকম একটি গুরুতর সিদ্ধান্ত শিল্পকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করবে।
