দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক নাটকীয়তার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ২৬টি আসনে সমঝোতা করে নির্বাচনে গিয়েছিল জাতীয় পার্টি। অভিযোগ রয়েছে শুরুতে ‘নির্বাচনের বিপক্ষে থাকা’ জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে নির্বাচনে যেতে প্রভাবিত করেছেন তার স্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক মহিলা এমপি শেরিফা কাদের। নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকে এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
নির্বাচনে জাপার ভরাডুবির পর একই অভিযোগ তোলেন জাপার অনেক শীর্ষ নেতাও। এমনকি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও গণমাধ্যমে অভিযোগ তুলেছিলেন, স্ত্রী শেরিফা কাদেরের আসন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পেতে গিয়ে দলকে বিক্রি করে দিয়েছেন জি এম কাদের।
তবে দীর্ঘ নীরবতা শেষে অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা একটা মিথ্যা বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ। এটা সত্য, আমাদের দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরায়নি। কিন্তু আমি আগেই বলেছি, এখানে আমাদের কোনো হাত ছিল না। আওয়ামী লীগ যেসব আসন ছেড়ে দেয়, সেই তালিকায় আমার স্ত্রীর আসনটিও ছিল, কিন্তু আমি আগে থেকে তা জানতাম না। আজ আমার দলের যারা সমালোচনা করছেন, আলোচনার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন, কখন কী হয়েছে তা তারা জানতেন। আজ যারা বলছেন, আমি আমার স্ত্রীর জন্য তাদের সিট স্যাক্রিফাইস করেছি, তারা নিজেরাও জানেন যে তারা সত্য বলছেন না। এ মানুষগুলো কিন্তু জানেন কেন আমরা নির্বাচনে গিয়েছি, কীভাবে গিয়েছি।
শেরিফা কাদের চেয়ারম্যানের স্ত্রী হিসেবে জাপার প্রেসিডিয়াম মেম্বার হয়েছেন কি না এমন প্রশ্নে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, শেরিফা কাদেরকে আমি নই, জাপার রাজনীতিতে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ নিয়ে এসেছিলেন এবং তাকে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। শেরিফা আমাদের জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির দীর্ঘদিনের সভাপতি এবং লালমনিরহাট জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ছিলেন। এই মুহূর্তে জাপায় যারা প্রেসিডিয়ামে আছেন, তাদের অনেকের চেয়েই তিনি মেধা ও যোগ্যতায় এগিয়ে আছেন। কারও যোগ্যতা থাকলে তিনি শুধু চেয়ারম্যানের স্ত্রী, এজন্য কি তাকে বাদ দিয়ে দেব? এবার নির্বাচনের মাঠে দেখেন, শেরিফা কিন্তু অনেক প্রচারণা চালিয়েছেন, মানুষের সমর্থন পেয়েছেন।
