খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা তরুণী ও তার মা এখনো বাড়ি ফেরেননি। গত শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল থেকে তাদের মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায় এক দল যুবক। পরে রাতে সোনাডাঙ্গা থানায় এসে তরুণী বলেন, তিনি ধর্ষণের শিকার হননি এবং হাসপাতাল থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু থানা থেকে বের হয়ে যাওয়ার চার দিন পরও খোঁজ মিলছে না তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বুধবারও তারা বাড়িতে ফেরেননি। ওই তরুণীর মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে। তরুণীকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও থানায় বা অন্য কোথাও এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে ওই তরুণীর মামাতো ভাই গতকাল বলেন, তার ফুপাতো বোন (ভুক্তভোগী তরুণী) বর্তমানে যশোরের কেশবপুরে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রয়েছেন। তার সঙ্গে তার মাও আছেন।
পুলিশ বলছে, পরিবারের লোকজন তরুণীকে উদ্ধার বা ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করতে চান না। আর অভিযোগ না পেলে তাদের করণীয় কিছু নেই।
এদিকে ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হয়েছে কী হয়নি, তা নিয়ে ডুমুরিয়া জুড়ে চলছে নানা আলোচনা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সব জায়গায় বিষয়টি এখন মূল আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তবে ঘটনার সত্য-মিথ্যা নির্ভর করছে তরুণীর মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।
খুমেক হাসপাতালের ওসিসির কো-অর্ডিনেটর ডা. সুমন রায় জানান, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন, আর ডিএনএ নমুনার পরীক্ষার ফলাফল পেতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এরই মধ্যে গাজী এজাজ আহমদের সঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর একাধিকবার কথোপকথনের একটি কললিস্ট সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, ‘ধর্ষণের ব্যাপারে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র।’
কললিস্টের ব্যাপারে এজাজ বলেন, ‘হয়তো তার (তরুণী) প্রয়োজনে আমার কাছে ফোন দিতে পারে। আননোন (অপরিচিত) নম্বর থেকে তো অনেক ফোন আসে। এটিও সে রকম হতে পারে। আমিও চাচ্ছি ঘটনাটি আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হোক।’
এর আগে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে গত শনিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে খুমেক হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হন ওই তরুণী (২৮)। উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে সেদিন বিকেলে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে জানান তিনি। পরদিন দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষ করে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাকে ছাড়পত্র দেয়। বিকেলে ওসিসির সামনে হাসপাতাল চত্বর থেকে একদল যুবক ওই তরুণী ও তার মাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে থাকা লোকজন রুদাঘরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানকে আটক করেন। তৌহিদুজ্জামান ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদের চাচাতো ভাই।
পরে ওইদিন রাত পৌনে ১১টার দিকে ওই তরুণীকে সোনাডাঙ্গা থানায় হাজির করা হয়। সেখানে তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে অপহরণ করা হয়নি। আমি আমার আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে গিয়েছিলাম।’ এরপর ওই তরুণী ও তৌহিদুজ্জামানকে সোনাডাঙ্গা থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যে গাড়িতে করে হাসপাতাল চত্বর থেকে তরুণী ও তার মাকে টানাহেঁচড়া করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই গাড়িতে করেই তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। থানা থেকে আবারও ওই গাড়িতে করে তাদের ডুমুরিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বলা হয়েছিল মেয়েটিকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এরপর চার দিন পেরিয়ে গেলেও ওই তরুণী ও তার মাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
