ট্রলারে চেপে ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ১৩০ রোহিঙ্গা

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩৫ পিএম

কাঠের ট্রলারে করে সাগর পাড়ি দিয়ে ইন্দোনেশিয়া পৌঁছেছেন ১৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী। আগতদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আজ বৃহস্পতিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আচেহ প্রদেশের উপকূলে পৌঁছান তারা। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তথ্যমতে, গত বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থী ইন্দোনেশিয়ায় এসেছেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে যখন সাগর শান্ত থাকে, তখন মিয়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু মুসলিমরা কাঠের নৌকায় করে প্রতিবেশী থাইল্যান্ড এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

ইন্দোনেশিয়ার ইউএনএইচসিআর-এর সুরক্ষা সহযোগী ফয়সাল রহমান বলেছেন, বৃহস্পতিবার সকালে ১৩০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা পূর্ব আচেহ এলাকায় পৌঁছেছেন।

রয়টার্স বলছে, মিয়ানমারের নির্যাতিত ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা উপকূলে অবতরণ করার সময় আচেহ উপকূলের স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রবল বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি গত বছরের শেষ দিকে রোহিঙ্গাবাহী একটি ট্রলার তীরে ভিড়তে না পারায় খাবার-পানির অভাবে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান।  

গত কয়েক বছর ধরেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ছেড়ে যাচ্ছে। নিজেদের দেশেই তাদেরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং তাদের সাধারণত মিয়ানমারে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নাগরিকত্ব হারানোর পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা জাতিগত নিধনের শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর অভিযানের পর দেশটি থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা।

ইন্দোনেশিয়া জাতিসংঘের ১৯৫১ সালের শরণার্থী চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ নয়। কিন্তু উপকূলে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে দেশটির। মূলত বাংলাদেশে আশ্রয়কেন্দ্র এবং রাখাইনে থাকা দালালদের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গা নৌকায় চেপে বসছে। তাদের বেশিরভাগকে মালয়েশিয়া বলে ইন্দোনেশিয়া অথবা থাইল্যান্ডের দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত