জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় দুই বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) আয়োজিত ‘উন্নয়নের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দেশের আমদানি ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্বালানি আমদানিতে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

সামুদ্রিক জ্বালানি সম্পদের প্রসঙ্গ তুলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিগত সরকার সমুদ্রসীমা অর্জনে সফল হলেও সেই বিশাল সামুদ্রিক অঞ্চলে তেল-গ্যাসসহ জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এ খাতে অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং নিজেদের সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেরও এ খাতের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, টেকসই ও সমাজকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন সহযোগীদের আরও বেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি গত সহায়তা এবং আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে এবং এ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগও উৎসাহিত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় কর-সুবিধা ও কর শিথিল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং ১০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

কর্মশালায় জ্বালানি নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা এবং দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত