যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গতকাল সোমবার ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, বাকিংহাম প্যালেসে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে বৈঠকে তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর, স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভ্যান হিলকে সঙ্গে নিয়ে বার্নহ্যাম বাকিংহাম প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠক করেন। এক বিবৃতিতে বাকিংহাম প্যালেস জানায়, ‘অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।’ যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলের নেতা বা সরকার গঠনে সক্ষম ব্যক্তিকে, বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাজা সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন।
৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে সমর্থকদের করতালিতে তাকে স্বাগত জানানো হয়। ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শুরুতেই বার্নহ্যাম উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের শুরু থেকে তিনি দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বকে দেখাতে হবে যে ব্রিটেন আবারও ‘স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে’ সক্ষম। তিনি একটি ‘নতুন রাজনৈতিক মডেল’ এবং ‘নতুন অর্থনীতি’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব নিয়ে বার্নহ্যাম ব্রিটেনের জন্য একটি ১০ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) শক্তিশালী করা, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা এবং আবাসন সংকট দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া সরকারি ক্রয়নীতির মাধ্যমে শিল্পায়ন পুনরুজ্জীবিত করা এবং আরও বেশি সরকারি আবাসন নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এর আগে তার পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিট ত্যাগ করার সময় বিদায়ী বক্তব্যে বলেন, তার স্বল্প সময়ের নেতৃত্বে ব্রিটেন আরও শক্তিশালী ও ন্যায়সংগত দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, দুই বছর আগের তুলনায় আজ ব্রিটেন আরও শক্তিশালী এবং আরও ন্যায়সংগত।’ স্টারমার বলেন, ‘আমি সৌজন্যের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি, হাসিমুখে বিদায় নিচ্ছি এবং আমরা যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত।’ অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ২০১৭ সালে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হন। কোভিড-১৯ মহামারিতে উত্তর ইংল্যান্ডের অধিকার ও আঞ্চলিক উন্নয়নে অবদানের জন্য তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাতি পান। সম্প্রতি উপনির্বাচনে জিতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ফেরেন তিনি। গত ২২ জুন বিতর্কিত নিয়োগসংক্রান্ত সমালোচনার মুখে কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিলে লেবার পার্টিতে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এবং প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থন পাওয়ায় দলপ্রধান নির্বাচিত হন বার্নহ্যাম।
বার্নহ্যামের প্রথম প্রধান কাজ হবে মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের নাম ঘোষণা করা, যা নিয়ে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচনে নিজের জয়কে বিগত ৪০ বছরের মধ্যে ব্রিটিশ রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। বার্নহ্যামকে লেবার পার্টির আইনপ্রণেতারা এমন একজন নেতা হিসেবে দেখছেন, যিনি ব্রেক্সিটপন্থি প্রবীণ রাজনীতিবিদ নাইজেল ফারাজের জনতুষ্টবাদী দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন। বার্নহ্যামের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে তার মন্ত্রিসভা গঠন, বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী নির্বাচন করা। এর আগে সরকারের এই শীর্ষ দুই পদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে একাধিক সরকারের পতন ঘটেছে। অর্থমন্ত্রী পদের দৌড়ে শুরুতে জ্বালানি নিরাপত্তামন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের নাম শোনা গেলেও তার বিরুদ্ধে কিছু নেতিবাচক প্রচারণার কারণে এখন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এই পদের জন্য সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।