প্রথম ছুটির দিনেই বইমেলায় ভিড়

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৪৫ পিএম

গতকাল বৃহস্পতিবার পর্দা উঠেছে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলার। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাঙালির প্রাণের এ মেলার ৪০তম আসরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ছুটির দিনেই পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড়ে লোকারণ্য মেলা প্রাঙ্গণ।

সরেজমিন দেখা যায়, মেলার স্টল-প্যাভিলিয়নগুলোতে গতকালের তুলনায় বেড়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে শিশুদের আগমনে ফিরেছে বইমেলার উচ্ছ্বাস। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে অনেকেই দেখা যাচ্ছে উপস্থিত হতে এ মেলায়। এ বছরের বইমেলায় বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন অংশের মোট ৮টি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ দিয়ে পাঠক-দর্শনার্থীরা আসা-যাওয়া করতে পারছেন। তবে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে একটি বের হওয়ার পথে। বাংলা একাডেমির দিকে বের হওয়ার পথটিকে এবার একটু সরিয়ে রমনা মন্দির গেটের কাছাকাছি নেওয়া হয়েছে।

একুশে বইমেলার দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকালটা ছিল শিশুদের। ১১টা থেকে ১টা শিশুপ্রহরে প্রাণখুলে ছুটে বেড়িয়েছে শিশুরা। আর প্রতিবারের মতো এবারও বইমেলার শিশুপ্রহরের মূল আকর্ষণ ছিল সিসিমপুরের জনপ্রিয় চরিত্র হালুম, টুকটুকি, ইকরি, শিকু।

সকাল সোয়া ১১টায় মেলার শিশুচত্বরে সিসিমপুর মঞ্চ উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। সিসেমি ওয়ার্কশপের বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম, বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মোজাহিদুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে মেলায় ঘুরতে আসা তিথি, রিম, পায়েল বলেন, প্রতি বছরই বইমেলায় আসি। এখানে এলে মনে প্রশান্তি পাই। এবারো পরিবারের সবাইকে নিয়ে বই মেলায় এসেছি। আমাদের ঘুরতে ভালো লাগে, তাই মেলায় ঘুরতে এসেছি। আজকে অনেক বই কিনব।

মিরপুর থেকে আসা আনোয়ার আলম শাহীন জানান, প্রতি বছরই মেলায় আসা হয়। তবে এইবার বিশেষ করে বই কেনার জন্য। ঢাকায় আমরা যারা পড়ালেখা করছি এই মেলার মাধ্যমে সবাই এক সঙ্গে হব, মেলাও ঘুরে দেখা হলো। সঙ্গে বইও কেনা হলো। প্রাণের এ বই মেলায় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হবে এটাও কম পাওয়া নয়।

মেলায় বই বিক্রেতা শামীম আনোয়ার বলেন, গতকাল উদ্বোধনের পর আজকে ভালোই ক্রেতা রয়েছে। যদিও গতকাল রাতে বৃষ্টি হয়েছে, তবে এতে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। ক্রেতারা আগে থেকেই বইয়ের নাম ও লেখকের নাম নিয়ে আসেন। এতে স্টল বা প্যাভিলিয়নগুলোতে বেশি ভিড় দেখা যায় না। একটা বই কিনতে এসে যদি অন্য বই ভালো লাগে তাহলে সঙ্গে আরো দুই- একটি বই কেনেন।

আহমেদ প্রকাশনীর প্রকাশক মেজবাহ উদ্দিন জানান, মেলায় যে হারে মানুষ এসেছে সে হারে বিক্রি নেই। অনেকে দলবলসহ স্টলে আসেন। তাদের মধ্যে কেউ বই কিনেন, আবার কেউ কিনেন না। তাই স্টলের সামনে জটলা থাকলেও বই বিক্রি তেমন বাড়েনি।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মেলা শুরু হয়েছে বেলা ১১টায়। চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত