কোনো একটা দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া ও মানুষের সৃজনশীলতা মিলে কোনো পণ্য তৈরি হলে তাকে বলা হয় সেই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিওগ্রাফিক্যাল ইনডিকেশন বা জিআই পণ্য। বাংলাদেশের মোট জিআই পণ্যের সংখ্যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭টিতে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিবন্ধিত জি-আই পণ্য হলো— নাটোরের কাঁচা গোল্লা।
আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ববিষয়ক সংস্থা ওয়ার্ল্ড প্রপার্টি রাইটস অর্গানাইজেশনের (ডাব্লিউআইপিও) নিয়ম মেনে বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এই স্বীকৃতি ও সনদ দিয়ে থাকে।
২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পায় জামদানি শাড়ি। এরপর একে একে পেয়েছে ইলিশ, বাগদা চিংড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ক্ষীরশাপাতি আম, ফজলি আম, ঢাকাই মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, রংপুরের শতরঞ্জি, কালিজিরা ধান, দিনাজপুরের কাটারিভোগ, বিজয়পুরের সাদা মাটি, শীতল পাটি, বগুড়ার দই, শেরপুরের তুলশীমালা ধান, চাঁপাই নবাবগঞ্জের ল্যাংড়া ও আশ্বিনা আম এবং নাটোরের কাঁচা গোল্লা। এরপর থেকে এই পণ্যগুলো বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য হিসাবে বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) পক্ষ থেকে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো জামদানিকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের অনুমোদন চাওয়া হয়। ২০১৬ সালে সেটি স্বীকৃতি পায়।
২০১৭ সালে ইলিশ মাছের জিআই স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর। আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ওই বছরের জুনে গেজেট প্রকাশ করা হয়। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো আপত্তি না করায় এ পণ্যের জিআই স্বত্ব পায় বাংলাদেশ।
রাজশাহী সিল্ককে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের জন্য ২০১৭ সালে আবেদন করে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড। ২০২২ সালে মিলেছে স্বীকৃতি। রেশম কাপড়ের একটি ধরন এই রাজশাহী সিল্ক। এটি মালবেরি সিল্ক।
মসলিনের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। একসময় এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি কাপড়। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড (বাতাঁবো) ঢাকাই মসলিনকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করার জন্য ডিপিডিটির কাছে আবেদন করলে সেটি ২০২০ সালে স্বীকৃতি পায়।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই পণ্যকে জিআই হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জানিয়েছিল, যা স্বীকৃতি পেয়েছে ২০২১ সালে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ২০১৯ সালে ডিপডিটির কাছে রংপুরের শতরঞ্জির জিআই স্বীকৃতির আবেদন করেছিল। ২০২২ সালে আসে স্বীকৃতি।
কোনো একটি দেশের পরিবেশ, আবহাওয়া ও সংস্কৃতি যদি কোনো একটি পণ্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে, তাহলে সেটিকে ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কোন পণ্য জি-আই স্বীকৃতি পেলে পণ্যগুলো বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং করা সহজ হয়। এই পণ্যগুলোর আলাদা কদর থাকে। ওই অঞ্চল বাণিজ্যিকভাবে পণ্যটি উৎপাদন করার অধিকার এবং আইনি সুরক্ষা পায়।
