বিজ্ঞাপনের বাজার চমৎকার তবে দক্ষ লোকের অভাব

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৫ এএম

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিজ্ঞাপন শিল্পের বাজারে দক্ষ লোকের অভাব রয়েছে। বর্তমান সময়ে এই শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিজ্ঞাপনী সংস্থা এক্সপ্রেশনস্ লিমিটেডের পরিচালক সৈয়দ আপন আহসান। বিজ্ঞাপন শিল্প ও বিজ্ঞাপনী সংস্থার বর্তমান পরিধি নিয়ে সম্প্রতি দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাজের ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন নতুন পণ্য ও সেবা বাজারে এনে ব্র্যান্ডগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর জন্য বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একটি ফুলসার্ভিস বিজ্ঞাপনী সংস্থা পণ্য বা সেবার পরিকল্পনা থেকে গ্রাহকের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করে থাকে।

নিজের প্রতিষ্ঠানের বর্ণনায় আপন আহসান বলেন, এক্সপ্রেশনসের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯২ সালের নভেম্বরে অভিনেতা, মঞ্চ নির্দেশক ও নির্মাতা রামেন্দু মজুমদারের হাত ধরে, যিনি নিজের উদ্যোগ ও বন্ধুদের সহযোগিতায় এক্সপ্রেশনস্ লিমিটেড তৈরি করেন। এক্সপ্রেশনস্ একটা ফুলসার্ভিস বিজ্ঞাপনী সংস্থা। এখানে বিজ্ঞাপনের চারটি ভিন্ন বিভাগ নিয়ে কাজ করা হয়। ডিজিটাল এক্সপ্রেশনস্ বিভাগটি শুধুমাত্র ডিজিটাল মিডিয়ার কাজগুলো করা হয়। এক্সপ্রেশনস্ ইভেন্টসে শুধুমাত্র ইভেন্ট নিয়ে কাজ করা হয়। এক্সপ্রেশনস্ সোশ্যাল ডিপার্টমেন্টে সোশ্যাল বিহেভিয়র চেঞ্জ নিয়ে অর্থাৎ বেসরকারি, এনজিও, ডোনার এজেন্সির কাজ করি। এক্সপ্রেশনস্ স্ট্রাটিজিক বিজনেস ইউনিট শুধুমাত্র নতুন কনজ্যুমার প্রোডাক্ট ও ব্র্যান্ড নিয়ে কাজ করে। তিনি আরও বলেন, আমরা ব্র্যান্ডের চাওয়া অনুযায়ী লোগো ডিজাইন, প্যাকেজিং, মিডিয়া সিলেকশন, মিডিয়ার জন্য ডিজাইন, অ্যাকটিভেশন, শপ সাইন, বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, রেডিও এবং টিভির জন্য বিজ্ঞাপন বানানো ও প্রমোশনের কাজ করে থাকি।

বিজ্ঞাপনী সংস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাজ শুরুর সময়টাতে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ বেশি ছিল কিন্তু আনন্দও ছিল। তখন বিজ্ঞাপনী সংস্থা এখনকার তুলনায় কম ছিল; কিন্তু শুরুর সময় সবাই জেনে বুঝে ও পরিপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে কাজ করতেন। হুট করে ব্যবসায় নেমে যাওয়ার হিড়িক ছিল না; যারাই ছিলেন দক্ষতার সঙ্গে এই ব্যবসাতে যুক্ত ছিলেন। এখন মিডিয়া অনেক বেড়েছে, সঙ্গে চ্যালেঞ্জও। সবাই টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে। ইন্ডাস্ট্রি বেড়েছে, এজেন্সি বেড়েছে, সঙ্গে দক্ষ লোকের অভাবও বেড়েছে।

এ ছাড়া ডিজিটাল মিডিয়া এখন অনেক বড় হয়েছে এবং কাজ করার অনেক জায়গা রয়েছে; কিন্তু আমরা সেখানে পৌঁছাতে পারছি না শুধু দক্ষতার ঘাটতির জন্য। এরমধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইনটিলিজেন্স (এআই) ডিজাইন, গ্রাফিক্স, ছবিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। শুধু বাংলাদেশে না সারা দুনিয়ায় এটা এখন কাজের অনেক বড় জায়গা।

বর্তমানে দেশে বিজ্ঞাপনী সংস্থার সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া কঠিন। ছোটবড় মিলিয়ে হয়তো শতাধিক হবে; তবে আমাদের মতো ফুলসার্ভিস বিজ্ঞাপনী সংস্থা হাতগোনা। সঠিকভাবে বলা না গেলেও এই শিল্পের বাজার হাজার কোটি টাকার ওপর বলে তিনি ধারণা করেন।

আপন আহসান বলেন, বিজ্ঞাপনের বাজারে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে ডিজিটাল দুনিয়ায়। এটা নিয়ে আমাদের আলাদা করে ভাবতে হবে। তবে এখন যে ডিজিটাল ট্রেন্ড, সেটার তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আমাদের পুরো মার্কেটই পিছিয়ে আছে। কাজের ও চাকরির অনেক সুযোগ থাকার পরও এখানে আমরা দক্ষ লোক পাচ্ছি না।

দক্ষ লোক তৈরি না হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন সময় অনেক চেঞ্জ হয়েছে। আমি মনে করি সবার গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের প্রয়োজন নেই। এরা যদি এসএসসি পাস করার পর থেকে তাদের নিজেদের ভালো লাগার জায়গা থেকে কাজ শেখে তবে দক্ষ লোকের অভাব হবে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেউ যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং বা ইলাস্ট্রেশন ভালোবাসে এবং সেটা নিয়ে যদি ১০ বছর পড়ে থাকে তবে তার দক্ষতার কাছে কেউ টিকতে পারবে না। আমরা ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা বলি; আগে একজন মানুষকে তার পণ্য বিক্রির জন্য অন্য দেশে যেতে হতো কিন্তু এখন যেতে হয় না। পুরো প্রক্রিয়া শেষে তার পণ্য কাক্সক্ষীত ভোক্তার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। সারা পৃথিবী এখন একটা মিডিয়া দিয়ে কানেক্ট করা যায়।

বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো এক্ষেত্রে কীভাবে সহায়তা করতে পারে জানতে চাইলে সৈয়দ আপন আহসান বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি আমাদের সচেতনতা দরকার। সবধরনের কাজে মানুষের ইনভলভমেন্টের জন্য বা তাদের কাছে যাওয়ার জন্য কমিউনিকেশন জরুরি; যা নিশ্চিত করাই বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর মূল কাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত