৮ বিভাগে ক্যানসার হাসপাতাল

অবকাঠামো নির্মাণেই পেরিয়ে গেছে সাড়ে চার বছর

  • বাংলাদেশে প্রয়োজন ১৭০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র, সরকারি পর্যায়ে ৯টি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
  • ২০১৯ সালে ৮টি বিভাগে ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:২২ পিএম

ক্যানসার নির্ণয় পরীক্ষা, চিকিৎসা সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমানো জন্য ২০১৯ সাল বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র করার উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু সাড়ে চার বছর পেরিয়ে গেলেও এই উদ্যোগ এখনও আলোর মুখ দেখেনি।

চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও জনগণের ব্যয়ভার কমানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার।

জানা যায়, ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ক্যানসার চিকিৎসায় দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল সরকার, যা ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অবকাঠামো নির্মাণের কাজই শেষ করা সম্ভব হয়নি।

১৭ কোটি মানুষের জন্য দেশে একটি মাত্র পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। ঢাকার মহাখালীতে এই হাসপাতাল ছাড়াও সরকারি পর্যায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসারের চিকিৎসা হয়। তবে এগুলোতে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৭০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র প্রয়োজন। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে ৯টি ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে কয়েকটি হাসপাতালে ক্যানসার চিকিৎসা হয়।

গত বছর দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর ক্যানসার (আইএআরসি) তথ্য অনুযায়ী, ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় শয্যা আছে মাত্র ৫০০; অর্থাৎ একটি শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার। আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ৫০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। অন্যরা চিকিৎসাসেবার বাইরে থাকছেন।

প্রকল্প পরিচালক ডা. এস এম মাসুদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা একটা জটিল প্রকল্প। প্রথমে শুধু ক্যানসার হাসপাতাল ছিল। পরে কিডনি এবং হৃদরোগ যোগ হওয়ায় প্রকল্প মাঝপথে আটকে গেছে। এ ছাড়া মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সংশোধন করা লাগছে। যদি প্রথমেই তিনটি কাজ একসঙ্গে শুরু করা হতো এবং বারবার পরিবর্তন করা না লাগত, তাহলে এমন জটিলতা হতো না।’

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্যানসার চিকিৎসা বিকেন্দ্রীকরণে এই প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ক্যানসার হাসপাতালটি ঘুরে এসেছি। খুব দ্রুতই এই প্রকল্প শেষ করে কার্যক্রম শুরু করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত