দেশের প্রথম ক্যান্সার প্রতিরোধ বিভাগ চালু গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম

দেশের প্রথম ক্যান্সার প্রতিরোধ বিভাগ চালু করল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যানসার হাসপাতালের অধীনে চালু হওয়া এই বিভাগে সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্যান্সার রোগের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডি ৬ নম্বর সড়কের গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ভবনের ষষ্ঠ তলায় বিভাগটির উদ্বোধন করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র চ্যারিটেবল ট্রাস্টের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ডা. আলতাফুন্নেসা।

এই বিশেষায়িত ক্যানসার প্রতিরোধ বিভাগের প্রকল্প সমন্বয়কারী ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্যান্সার ইপিডেমিওলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বিভাগ সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এখানে ক্যান্সার প্রতিরোধ বিভাগ চালু হলো। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সব ক্যান্সার হাসপাতালেই ক্যান্সার প্রতিরোধ বিভাগ আছে। প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের দিকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন, আগে থেকেই এখানকার ক্যান্সার হাসপাতালে একটি ডে-কেয়ার সেন্টার চালু আছে। যেখানে শিশু ও বড়দের কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। তিন ধাপে চালু হওয়া এই হাসপাতালের একটি হচ্ছে এই প্রতিরোধ বিভাগ। আশা করছি এই সপ্তাহ থেকেই কাযক্রম চালু হবে।

ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন জানান, কয়েক দিনের মধ্যে সেবার হার প্রকাশ করা হবে। সরকারিভাবে ওরাল ক্যানসার, ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট ও ভায়া ফোর সারভিকাল ক্যানসার পরীক্ষা ফ্রি করা হয়। যাদের সামর্থ নেই এখানে তাদের ফ্রি করা হবে। যারা মধ্যম আয়ের তাদের জন্য একটা ফি থাকবে, দিতে চাইলে দেবেন।

এই চিকিৎসক আরও জানান, একটি মধ্যম মানের ক্লিনিকে ব্রেস্ট ক্যান্সার সার্জারিতে যে খরচ লাগে তার অর্ধেক খরচে এখানে সার্জারি হবে। ২০২৪ সালের মধ্যেই মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বরে গণস্বাস্থ্যের নির্মাণাধীন ভবনে বহির্বিভাগ, স্ক্রিনিং এবং দূর-দূরান্তের রোগীদের জন্য অল্প খরচে থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থাসহ প্রাথমিকভাবে গণস্বাস্থ্য ক্যান্সার নিবাস চালু হবে। এ ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য এলাকার হাসপাতালে আসা যাওয়ার জন্য নামমাত্র ভাড়ায় পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষ ক্যানসার চিকিৎসা করতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি করেও এর বিস্তার থামানো যাবে না। করোনার সময় প্রমাণিত হয়েছে, চিকিৎসাভিত্তিক সেবা দিয়ে মানুষকে সুস্থ রাখা যায় না। সুতরাং প্রতিরোধ জরুরি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ হাই, বারডেমের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী, নারীস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও জনহপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ড. হালিদা হানুম আখতার, নারী অধিকার নেত্রী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি শিরীন হক, বিএসএমএমইউ এর গাইনি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লতিফা শামসুদ্দিন, ইউরো-অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নেজাম উদ্দিন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আফতাব উদ্দিন, ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ডা. মো. শহিদুল্লাহ, নিপসমের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আব্দুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হাকিম মজুমদার, হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আতাউর রহমান মিটন, নিরাপদ খাদ্য আন্দোলন কর্মী শওকত মাহমুদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের বক্তব্য রাখেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, অধ্যাপক ডা. বদরুল হক, ডা. ফারজানা আক্তার ও ডা. নিজামুল হক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত