আবারও কর্মচারীর বেতন আটকে দিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৮ পিএম

এবারও কর্মচারীদের বেতন আটকে দিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক জয়নাব বিবি জলি। অপরদিকে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসের বেতন না পেয়ে কষ্টে আছেন উপজেলা পরিষদের চারজন কর্মচারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যৌথ স্বাক্ষরে পরিষদের অধীনে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম রফিকুল ইসলাম বেতন শিটে স্বাক্ষর দিলেও উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না করায় ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি মাসের বেতন পাননি পরিষদের চারজন কর্মচারী। ফলে গত দুই মাস ধরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।

অফিস সহায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন সুমন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ম্যাডাম ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অপছন্দ করেন। তাই আমি যাতে বেতনের টাকা তুলতে না পারি সেজন্য বেতন শিটে স্বাক্ষর করছেন না। এমনকি তিনি পূর্বের উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান এমপির আমলে পাস হওয়া আমার তিন মাসের ভ্রমণ বিলও আটকে দিয়েছেন।’

অপর অফিস সহায়ক আজিম উদ্দিন বলেন, ‘দুই মাসের বেতন না পাওয়ায় আমাদের সংসার খরচ চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। ধার-দেনা করে ব্যয় নির্বাহ করছি।’

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কার্যালয়ের সিএ অঞ্জনা দত্ত বলেন, ‘মোয়াজ্জেম হোসেন সুমনকে বাদ দিয়ে জানুয়ারি মাসের বেতন শিট তৈরি করতে বলেছেন উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ম্যাডাম। কিন্তু এই শিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষর না করায় সবার বেতন আটকে থাকে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বেতন আটকে রাখার এখতিয়ার কারো নেই। কেউ যদি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয় তবুও সরকারের নিয়ম অনুযায়ী তাকে খোরপোষ দেওয়া হয়। পরিষদের কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের বেতন শিটে আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কেন তা আটকে রেখেছেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। তবে একজন কর্মচারীকে বাদ দিয়ে অপর তিনজনের জানুয়ারি মাসের বেতন শিট আমার কাছে আনা হলে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় আমি তাতে স্বাক্ষর করিনি।’

উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নাব বিবি জলি বলেন, ‘মোয়াজ্জেম হোসেন সুমন অফিস সহায়ক হয়েও বেয়াদবি করায় আমি তার নাম বাদ দিয়ে বাকিদের বেতন শিট রেডি করতে বলেছি। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষর না করায় সবার বেতন আটকে যায়।’

এভাবে বেতন আটকানোর এখতিয়ার আপনার আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি আমাকে তোয়াক্কা না করে বারবার হেনস্থা করছেন। এ কারণে আমি তার বেতন আটকে রেখেছি। এ ঘটনায় যদি আমার কোনও শাস্তি হয় হোক।’

প্রসঙ্গত, এর আগে গত নভেম্বর মাসে মোয়াজ্জেম হোসেন সুমনের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছিলেন জয়নব বিবি জলি। একই সময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমান সংসদ সদস্য এসএম আল মামুনের অনুসারী হওয়ায় জয়নাব বিবি জলি বিরুদ্ধে  বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত হয়রানির অভিযোগ করেন মোয়াজ্জেম হোসেন সুমন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত