আন্দোলনে ৩০ নেতাকর্মীর মৃত্যু

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩০ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যে আন্দোলন করেছে তার সার্বিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিএনপি। আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিবেদন এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জাতির সামনে তুলে ধরবে দলটি।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), লেবার পার্টিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে রিপোর্ট পেশ করবে আজ। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।

তারা বলেন, গত তিন মাসের আন্দোলনে বিএনপির ১২ নেতাকর্মী কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং কর্মসূচি পালনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় ১৮ জন নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি নতুন কর্মসূচির ঘোষণা হতে পারে বলে আলোচনায় রয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে এ মুহূর্তে বলতে পারব না। আগামীকাল (আজ) বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে সবই পরিষ্কার হবে।’

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে আমরা আন্দোলন করেছি। নির্বাচনের পরও আন্দোলন করেছি। আন্দোলনের বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা আমরা করেছি। তার বিষয়বস্তু সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে। আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের ১৮ নেতাকর্মী মারা গেছেন। এছাড়া কারাগারে বিনা চিকিৎসায় কিংবা চিকিৎসার অবহেলায় আমাদের ১২ জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। কারাবন্দি নেতাদের অনেকে গুরুতর অসুস্থ। তাদের কারা কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা দিচ্ছে না, যার কারণে আমরা আশঙ্কা করছি আরও কিছু নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করতে পারেন। 

বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কারাবন্দি বিএনপি নেতাকর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েইে চলছে। চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। অনেক মৃত নেতার পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিএনপির দপ্তরসংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জেলা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

বিএনপি ছাড়া এলডিপি ও লেবার পার্টি এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পৃথক পৃথক প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন দলগুলোর নেতারা।

কারাগারে ১২ জনের মৃত্যু : বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংশ্লিষ্ট নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত তিন মাসে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের কারাগারে বিনা চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তাদের ১২ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ জানুয়ারি রাতে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার জেলা কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। আর যারা মারা গেছেন তারা হলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. জাকির হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানার ৫ নম্বর মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি গোলাপুর রহমান (গোলাপ কন্ট্রাক্টর), ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুল, গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান হিরো, রাজশাহী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম (৫২), বিএনপির মিডিয়া সেলের ডিজিটাল বিভাগের প্রধান ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সাংবাদিক মাহবুব মানিক, নওগাঁর নজিরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিবুল ম-ল, গাজীপুরের কাপাসিয়ার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. শফিউদ্দিন মাস্টার, মুগদা থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজল, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন মিজান ও ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. হারুন মেম্বার।

কারাগারের বাইরে মারা গেছেন ১৮ জন : কারাগারের বাইরে যারা মারা গেছেন তারা হলেন, গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন পুলিশের গুলি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ ঢাকা মহানগর যুবদল নেতা শামীম। এছাড়া আদাবর থানার সাবেক যুবদল নেতা মো. আবদুর রশিদ, ফরিদপুরের নগরকান্দা ইউনিয়ন বিএনপি নেতার স্ত্রী রেঞ্জুয়ারা বেগম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ও সচিত্র স্বদেশের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক রফিক ভুঁইয়া, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ ও ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি মো. বিল্লাল মিয়া, সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য দিলু আহমদ জিল্লু, কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শাখার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. আশিক মিয়া, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বিপ্লব হাসান বিপুল, কক্সবাজারের জালিয়া পালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাগির হোসেন, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. রিয়াজ, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. স্বপন, নওগাঁ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ, বগুড়ার শেরপুরের বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আব্দুল মতিন, বগুড়ার শাহজাহানপুরের খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফোরকান আলী, খুলনার পাইকগাছা উপজেলা যুবদল নেতা শহিদুর রহমান শহীদের বাবা মো. ইউনুচ আলী গাজী, সীতাকু- ২ নম্বর বারৈয়াঢালা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নুরুল মোস্তফা বজল ও ময়মনসিংহের পাগলা থানার পাইথল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা. হারুনুর রশীদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত