সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়মুক্তি নেই বলে রায় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ফলে তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগসহ আরও যেসব মামলা রয়েছে, সেটির বিচার চলতে কোনো বাধা নেই।
অবশ্য ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব ধরনের অপরাধ থেকে তার দায়মুক্তি আছে এবং তিনি ওই সময় যা করেছিলেন সেটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির আদালত তার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কাউন্সেল জ্যাক স্মিথ ৭৭ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। তার অভিযোগ, ওই সময় ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকার জন্য ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ৪ মার্চ থেকে এ মামলার কার্যক্রম শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়মুক্তি আছে কি না, সে প্রশ্নে মামলাটির কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের শুরুতে ওয়াশিংটন ডিসির একটি ডিসি সার্কিট আদালতে বিচারপতিদের একটি প্যানেল এ মামলার শুনানিতে অংশ নেয়। ওই সময় ট্রাম্পের আইনজীবী যুক্তি দেন, যে প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অভিশংসনে অভিযুক্ত হননি তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক বিচার করা যাবে না। আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, ট্রাম্প হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভে অভিশংসিত হয়েছিলেন কিন্তু কখনো সিনেটের দ্বারা হননি।
তবে ওই সময় প্যানেল বিচারক ফ্লোরেন্স প্যান বলেন, এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না। কারণ একজন প্রেসিডেন্ট যদি দায়মুক্ত থাকেন তাহলে তিনি রাষ্ট্রের গোপন নথি বিক্রি করে দিতে পারেন এবং কোনো চিন্তাভাবনা ছাড়াই তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করতে পারেন।
এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি থেকে ট্রাম্পের মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। আদালতের এ আদেশকে তার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবশ্য ট্রাম্পের প্রচার মুখপাত্র স্টিভেন চেউং বলেছেন, এ আদেশের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। সুপ্রিম কোর্টে আপিলের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় পাবেন ট্রাম্প। এরপর এ আদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন কি না, সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে।
