তেল-গ্যাস খাতে প্রায় ৩৪ কোটি মার্কিন ডলার বকেয়া জমেছে। গ্রীষ্ম মৌসুমে জ্বালানি চাহিদা আরও বাড়বে। বকেয়া পরিশোধ না করলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ সম্ভব হবে না। সমস্যা সমাধানে ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) কাছ থেকে ২১০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এ বিষয়ে একটি ঋণচুক্তি সই হয়।
আইটিএফসির ঋণ তিন মাস মেয়াদি হলে সুদ হবে ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ আর ছয় মাস মেয়াদি হলে সুদ হবে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ছয় মাসের জন্য ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিলে পেট্রোবাংলাকে ১ দশমিক ৯৭ কোটি ডলার বা ২০৯ কোটি টাকা সুদ দিতে হবে। এই পরিমাণ অর্থ এলএনজি খাতে বকেয়া থাকলে জরিমানা হবে ১৫৭ কোটি টাকা। সুদ বেশি হলেও ডলারের জোগান নিশ্চিত করতে ঋণ নিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
গতকাল স্বাক্ষরিত ঋণচুক্তিতে সই করেন আইটিএফসির পক্ষে চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) এম নাজিম নুরদালি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষে সচিব নুরুল আলম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আইটিএফসি আগে থেকেই তেল আমদানিতে সহযোগিতা করে আসছে। এখন তেলের পাশাপাশি গ্যাস কিনতেও সহযোগিতা করবে। এলএনজি কিনতে প্রায় ৫০ কোটি ডলার দেবে আইটিএফসি। এর বাইরে আরও ১৬০ কোটি ডলার দেবে সংস্থাটি, যা আগামীতে সংকট নিরসনে সহায়তা করবে। সূত্র জানিয়েছে, এলএনজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলার কাছে ১৭ কোটি ডলার পাবে। বকেয়া পরিশোধ না করায় জরিমানাও গুনতে হচ্ছে।
জানা গেছে, স্পট মার্কেটের কার্গোগুলো পাওনা পরিশোধে গড়ে ২৫ দিন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওমান ও কাতারের কার্গোগুলোর পাওনা দিতে পেট্রোবাংলার গড়ে ২০ দিন দেরি হচ্ছে। ৭ দিনের বেশি দেরি হলে স্পট মার্কেটের জন্য জরিমানা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে জরিমানা ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এদিকে চলতি বছর ৮০ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার। এর মধ্যে স্পট মার্কেট থেকে ২৪ কার্গো এবং ওমান ও কাতর থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় মোট ৫৬ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। ডলারের জোগান না বাড়লে এই এলএনজি আমদানি ব্যাহত হবে বলে মনে করছে পেট্রোবাংলা।
জানা গেছে, আইটিএফসি থেকে ৫০ কোটি ডলার ঋণ নিতে গত জুলাই মাস থেকে চেষ্টা করছে পেট্রোবাংলা। সুদ বেশি বলে সে সময় তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেয় অর্থ বিভাগ। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংককে ডলার ছাড়ের নির্দেশ দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত ডলার পায়নি পেট্রোবাংলা। গত ১৫ নভেম্বর অর্থ বিভাগে বৈঠকে আইটিএফসি থেকে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে সবাই সম্মত হন।
ডলার সংকটের কারণে তেল সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলো জাহাজ বাতিল করছে। প্রতি মাসে তালিকাভুক্ত চার-পাঁচটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসছে না। জানা গেছে, তেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো বিপিসির কাছে ১৯ কোটি ডলার পাবে। এ সংকট কাটাতে বিপিসিও আইটিএফসি থেকে ঋণ নিচ্ছে।
