এমআরটি পাস হুটহাট ড্যামেজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন মেট্রোরেলের যাত্রীরা। কেউ বলছেন, তিন ধরে ঘুরছি, সার্ভার বন্ধ থাকায় কোনো সমাধান পাচ্ছি না। কেউ বলছেন, এমআরটি পাসে তো হয়রানি আরও বেড়ে গেল। আবার কেউ কেউ পুরো সিস্টেমকেউ দোষ দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির অধীনে আনতে বলছেন। আবার কেউ বলছেন, এমআরটি পাসে ম্যাগনেটিক রিবন আছে। কার্ডটি যত্ন করে রাখতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে।
সম্প্রতি ফেসবুকে মেট্রোরেলের একটি কমিউনিটি গ্রুপে ইমরান ইমু ও শফিকুল আলম সায়েম নামের দুজন মেট্রো যাত্রী দ্রুত এমআরটি পাস ড্যামেজ হওয়া নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তারা সার্ভার সমস্যার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেছেন।
ইমরান ইমু লিখেছেন, 'সুস্থ কার্ড হুটহাট ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে! কার্ড নিয়ে গেলেই বলে এর কাছে যান, ওর কাছে যান! এমআরটি পাসে হয়রানি তো আরও বেড়ে গেল! তার ওপর কার্ডে বেশি রিচার্জ করে নিলাম তখন বলে ড্যামেজ।'
বার্সেলোনার কথা তুলে ধরে ইমু লেখেন, 'বার্সেলোনাতে যখন ছিলাম ২০১০ এর আগের কথা। ৬ বছরের ইতিহাসে কখনো কার্ড ড্যামেজ, সার্ভার নাই এসব শোনা লাগেনি। তখনের চেয়ে প্রযুক্তি এখন আরও এগিয়েছে! আরও অনেক ফার্স্ট কাজ করার কথা।'
ইমু আরও লিখেছেন, 'মানুষের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব নতুন এবং পুরাতনের ব্যাপার থাকে, অভিজ্ঞতার ব্যাপার থাকে, মেশিনের তো এসব হওয়ার কথা না। আমার সাথে একই সময়ে আরও অনেকেরই একই অভিযোগ ছিল! ভোগান্তি দূর করতে গিয়ে ভোগান্তি বেড়ে গেল!'
তবে এখানে হাবিবুল আহসান কমেন্ট করেছেন, 'সমস্যা হলো এটা বার্সেলোনা না। এটা বাংলাদেশ। এখানে দুই টাকার কাজ ১০০ টাকা ধরা হয়, তারপর ১ টাকার কাজ হয়। তো সার্ভিস ভালো পাবেন কিভাবে?'
এমএইচ ইমন মিলন লিখেছেন, 'বার্সেলোনায় মেট্রোরেল ১৯২৪ সালে চালু হয়েছে সেখানে ২০১০ সালে প্রায় ৮৬ বছর পরের কথা। আর আমাদের ২০২২। যারা মেট্রোরেল টিকেট অপারেটিং বা কাস্টমার রিলেশন নিয়ে কাজ করে তাদেরকে পরিপূর্ণ ট্রেনিং দেওয়া হলেও তাদের কাজের অভিজ্ঞতা খুবই কম পক্ষান্তরে ভিড় অনেক বেশি এবং সাধারণ মানুষের এইটার সাথে অভ্যস্ততা আসতে সময় লাগবে সুতরাং অপেক্ষা করেন ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।'
তাওসিক আব্দুল্লাহ লিখেছেন, 'এখন একদল লোক যত্ন করে কার্ড ব্যাবহার করার পরামর্শ দেবে। আরে মিয়া, বছরের পর বছর এটিএম কার্ড ব্যাবহার করি। কিভাবে যত্ন করে কার্ড রাখতে হয় সেটা কি আমরা জানি না?' মিলন আহমেদ লিখেছেন, 'কার্ড বা মেশিন কোন বড় বিষয় না, মূল সমস্যাতো এই মহান দেশের মানুষের নৈতিকতা আর দায়িত্ববোধের।'
এমআরটি পাসের দুই পিঠের ছবি শেয়ার করে শফিকুল আলম সায়েম প্রশ্ন করেছেন, 'এই কার্ডটা কি কোন দিক থেকে ড্যামেজ মনে হয়? পাঞ্চ করার সময় কোনো কিছু শো করছিলো না। মিরপুর ১০-এ প্রায় ২৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে যখন দায়িত্বরত ব্যক্তিকে দেখালাম উনি বললেন ড্যামেজ। একটা ফরম ফিলাপ করতে বললেন তাও করলাম। পরে বললেন আগামীকাল আসতে।'
সায়েম লিখেছেন, 'পরের দিন যথারীতি ২০-২৫ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দিলাম। দায়িত্বরত ব্যক্তি বললেন, সার্ভার প্রবলেম কাল আসেন। তার পরের দিন একইভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দিলাম আবারও সার্ভার প্রবলেম। যথারীতি আজ সকালেও লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দিলাম। সেই একই উত্তর সার্ভার প্রব্লেম। তবে বললেন বিকেলে আসেন। অফিস শেষ করে আবার লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দিলাম একই উত্তর সার্ভার প্রবলেম।'
সায়েম আরও লিখেছেন, 'আমি বুঝলাম না সার্ভার প্রব্লেম হলে ঠিক করার দায়িত্ব কার? আমি তিন দিন ধরে ঘুরছি। অবস্যশ্যই আমার সময়ের মূল্য রয়েছে। এভাবে ঘোরানো একটা হ্যারাজমেন্ট। এতো ওয়েল মেইন্টেইন একটা প্রতিষ্ঠান এতো দায়িত্ব জ্ঞান শূন্য হয় কি করে? তারা কি এভাবেই চালাবে?'
তবে তার এখানে বাবলু শাদাত কমেন্ট করেছেন, 'তিন দিন সার্ভারে সমস্যা! এটা কিভাবে সম্ভব! হয় আপনি ভুল বলছেন না হয় আপনি উজবুক দেশে আছেন (আমি সহ)!' সেখানে আবার সায়েম রিপ্লাই করেছেন, 'আমি সত্যি বলছি।' কাদের মামুন লিটু বলেছেন, 'আপাতত আরেকটি কার্ড নিয়ে নিন।' আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, 'এটা মোটেই কাম্য নয়।'
কাজেম আল কুরেশি লিখেছেন, 'এমআরটি পাস ড্যামেজ হওয়ার অনেক নিউজ পেয়েছি। এগুলো তৈরিতে নিশ্চয় অনিয়ম হয়েছে। নিম্নমানের প্রোডাক্ট। সংশ্লিষ্ট উৎপাদন প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার অধীনে আনা উচিত।' মোহাম্মদ আসিফুর রহমান লিখেছেন, 'সার্ভার কী তুরাগ পরিবহনের ড্রাইভার আর হেলপার পরিচালনা করে।' সুজন বালো লিখেছেন, 'কর্তৃপক্ষের কেউ কি নেই এগুলা দেখার।'
এদিকে মেহেদি হাসান শিমুল লিখেছেন, 'কার্ড দেখতে ঠিকঠাক হলেও ভেতরে চিপ আছে সেটা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ড্যামেজ। এক্ষেত্রে আপনার দোষ নেই। যিনি কাউন্টারে দায়িত্বরত তাদেরও দোষ নেই। কারণ সার্ভারে সমস্যা থাকলে আপনার তথ্য শো করবে না, ফলে এটা রেজিস্ট্রেশন করে পূনরায় আপনাকে নতুন কার্ড দেওয়ার সুযোগ নেই। আপনি লিখিত অভিযোগ করে সরাসরি স্টেশন কন্ট্রোলার সঙ্গে কথা বলবেন। আপনি হেনস্থা হচ্ছেন সেটা বুঝা যাচ্ছে কিন্ত কিছুদিন হলো এইসব সমস্যা সমাধান জন্য আপনাদের তথ্য যে সার্ভার থাকে সেটায় সমস্যা। এজন্য রেজিস্ট্রেশন করা যাচ্ছে না। তাই সাময়িক অপেক্ষা করা ছাড়া কিছু করার নেই। এ ব্যপারটা এতই জটিল যে মেইনটেন্যান্স দায়িত্বরত ছাড়া বাকিদের জানানো। মুশকিল সার্ভার কখন নাগাদ ঠিক হবে।'
আবার আকিব হাসান পাভেল নামক আরেকজন লিখেছে, 'আমি এই বিষয়টার কারণ খুঁজে পেয়েছি। মোটা মানুষের কার্ড বেশি নষ্ট হয়ে। এর কারণ পেছনের পকেটে (মানিব্যাগে কার্ড রাখে) চাপে কার্ড সংকোচন হয়। কিন্তু কার্ড তো ম্যাগনেটিক রিবনের। সেই কারণে সংকোচন হলে কার্ডের ম্যাগনেটিক থেকে ডাটা মুছে যায় বা করাপ্ট হয়। এই কারণেই কার্ড নষ্ট হয়। কার্ডের ম্যাগনেটিক রিবন দেখতে মোবাইলের ফ্ল্যাশ কার্ডের পেছনে ধরুন। দেখবেন চারপাশে এই ম্যাগনেটিক রিবন দেখা যাচ্ছে। কারোর ওজন যদি ১০০ কেজির বেশি হয় তাহলে পেছন পকেটে বা মানিব্যাগে কার্ড রাখা পরিহার করাই শ্রেয়।'
মেট্রোরেলে আগে নামতে দেবেন নাকি উঠতে?
এই ভয়টাই ছিলো, মেট্রোতে সেটাই আজ দেখলাম!
মেট্রোরেলে 'বিবেকের অভাব!'
মেট্রোরেলে কাঁধে ব্যাগ না নিয়ে হাতে নিতে বলায় তোপের মুখে যাত্রী