দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আর্থিক চুক্তি বাতিল করতে যাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ উত্তর কোরিয়া। দুই কোরিয়ার সম্পর্কের অবনতি অব্যাহত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে অর্থনৈতিক সমস্ত চুক্তি বাতিল করার পক্ষে ভোটগ্রহণ হয়।
উত্তর কোরিয়ার সরকারী সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এর বরাতে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার বিধানসভায় ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি, মাউন্ট কুমগাং আন্তর্জাতিক প্রকল্পসহ সিউলের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণকারী আইনগুলি বাতিল করার পক্ষে ভোট দেয়।
২০০০ দশকের গোড়ার দিকে দুই কোরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে চালু হয়েছিল মাউন্ট কুমগাং আন্তর্জাতিক প্রকল্পটি, পূর্ব সীমান্তের ঠিক উত্তরে অবস্থিত মনোরম পর্বতটি প্রায় ২০ লাখ দক্ষিণ কোরিয়ার দর্শকদের আকর্ষণ করেছিল।
তবে ২০০৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পথ হারানো পর্যটক উত্তর কোরিয়ার রক্ষীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার পরে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়েছিল।
উত্তর কোরিয়ার এই পদক্ষেপে পতিক্রিয়া জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয় যারা পিয়ংইয়ংয়ের সাথে সম্পর্ক পরিচালনা করে, জানিয়েছে যে উত্তরের পদক্ষেপ আশ্চর্যজনক নয় এবং এটি কেবল তার বিচ্ছিন্নতাকে আরও গভীর করবে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, সিউল একতরফা পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয় না।
তবে কেসিএনএর প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার আরেকটি বড় যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প কায়েসোং শিল্প অঞ্চল পরিচালনাকারী বিশেষ আইনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এই অঞ্চলে ১২৫টি দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানির কারখানা ছিল যেখানে উত্তর কোরিয়ার ৫৫ হাজার শ্রমিক কাজ করত।
২০১৬ সালে সিউল উত্তর কোরিয়ার পঞ্চম পারমাণবিক পরীক্ষা এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর প্রকল্পটি স্থগিত করে এবং কোম্পানিগুলো প্রত্যাহার করে নেয়। যার ফলে কারখানা জোনটি বন্ধ হয়ে যায়।
কেসিএনএ আরও জানিয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম বুধবার ভোগ্যপণ্য এবং খাদ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলি পরিদর্শন করেছেন এবং একটি নতুন আঞ্চলিক উন্নয়ন নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে এসব কারখানা আধুনিকীকরণের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাজধানী রক্ষায় ‘পিপলস মিলিশিয়া’ গঠন করছে জান্তা