কেন্দ্রশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এ ধারাবাহিকতায় ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওই অঞ্চলের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলার অন্তর্বর্তী বাজেট প্রস্তাব করেছেন ৷ লক্ষ্য হল জম্মু-কাশ্মিরের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাজস্ব ঘাটতি হ্রাস করা এবং জিএসডিপিতে ৭.৫ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন।
অন্তর্বর্তী বাজেটে ২০ হাজার ৭ ৬০ কোটি রুপির ঘাটতি এবং মোট রাষ্ট্রীয় অভ্যন্তরীণ পণ্যে (জিএসডিপি) ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সংসদে পেশ করা বাজেট অনুযায়ী, অর্থবছরের জন্য মূলধন ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৬৬ কোটি রুপি, যা জিএসডিপির ১৪.৬৪ শতাংশ।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে বলেন, এবারের বাজেটে সরকারের মনোযোগ যুবক, কৃষক, নারী ও দরিদ্রদের প্রতি। জম্মু-কাশ্মিরের জন্য সরকার একটি অর্থনৈতিক পন্থাও গ্রহণ করবে যা টেকসই প্রবৃদ্ধি সহজতর এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। লোকসভা নির্বাচনের আগে এটি ছিল ভারতের শেষ অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট।
এবারের বাজেটে জম্মু-কাশ্মিরের জন্য এত বড় একটি বরাদ্দ বেশ চমক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন জম্মু-কাশ্মিরের অর্থনীতি উদ্ধারে এই বাজেট ওই অঞ্চলটির প্রতি কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের একটি সুদৃঢ় নিদর্শন।
অর্থমন্ত্রী সীতারামন এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি দিল্লির প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দিয়েই পাকিস্তান যেদিন ‘কাশ্মীর সংহতি দিবস’ পালন করে সেদিনেই অন্তর্বর্তী বাজেট উন্মোচন করেন। আর বিশ্লেষকরা বলছেন জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ১৪ বিলিয়ন ডলারের যে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে তা একই সময়ে পুরো পাকিস্তানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএফএম) দেওয়া বরাদ্দের চেয়ে ৪.৫ ভাগ বেশি।
উল্লেখ্য, দিল্লি যে সময়ে জম্মু-কাশ্মিরের জন্য এত বড় একটি বরাদ্দ দিয়েছে সেই একই সময়ে পাকিস্তান অধিকৃত গিলগিট বালতিস্তানের জনগণ ট্রাকের পেছনে ছুটছেন কম দামে সরকারি আটা কিনতে। গত একমাস ধরে ১৫ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে লাগাতার অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে অঞ্চলটির সাধারণ জনগণ।
অর্থমন্ত্রী সিতারামন শাসনের বিকেন্দ্রীকরণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রচার এবং রাজস্ব উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি সংসদে পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেট অনুসারে অর্থবছরের মূলধন ব্যয় ৩৮ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করেছেন যা জিএসডিপির ১৪.৬৪ শতাংশ।
সীতারামনের মতে, ২০১৯ সালে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো শাসন কাঠামোর বিকেন্দ্রীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, উচ্চতর রাজস্ব উৎপাদন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সরকারের পদক্ষেপগুলো সক্ষম করেছে। সরকার একইসঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ বাস্তবায়নের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে।
বাজেট বক্তব্যে সীতারামন ২০২৯ সালে সূচিত রূপান্তরমূলক সংস্কারগুলো তুলে ধরেন, যা জম্মু ও কাশ্মিরে শাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, বর্ধিত রাজস্ব উৎপাদন এবং পরিকাঠামোগত অগ্রগতির পথ প্রশস্ত করেছে। তিনি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতির সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের অটল অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন।
জম্মু-কাশ্মিরের গভর্নর মনোজ সিনহা বলেন, এবারের বাজেটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছে।
বিলাওয়ালকে প্রধানমন্ত্রী করলেই জোটে রাজি পিপিপি