পরীক্ষা শব্দটির সঙ্গেই যেন একটা ভয় ভয় অনুভূতি জড়িয়ে আছে। এ ভয় যে কেবল শিক্ষার্থীদেরই ভীত করে এমন নয়। পরীক্ষা শব্দটি ছোট-বড় সবার মধ্যেই অকারণেই ভীতির সঞ্চার করে।
পরীক্ষায় কী প্রশ্ন আসবে, কী লিখব, শিক্ষক উত্তরপত্র কঠিন না সহজ করে দেখবেন এসব প্রশ্ন যখন কোনো শিক্ষার্থীকে ব্যাকুল করে তোলে সেটাই হলো পরীক্ষা ভীতি।
পরীক্ষা যেন এক যুদ্ধক্ষেত্র। তবে এ যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের সঙ্গেই যুদ্ধ করতে হয় অর্থাৎ কে কতটা প্রস্তুতি নিয়েছ তার ওপর নির্ভর করে যুদ্ধে জয়ী হওয়ার বিষয়টি।
জীবনে নানা সময়ে বিভিন্ন ভাবে আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়। কোনোটায় উত্তীর্ণ হই কোনোটায় বা অকৃতকার্য। কিন্তু আজ যে পরীক্ষার কথা বলছি সেটা তোমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা, এসএসসি পরীক্ষা যা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।
তোমাদের শিক্ষা জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষা। যদিও এ পরীক্ষায় বসার জন্য তুমি যথেষ্ট সময় পেয়েছ।
এসএসসি পরীক্ষা একেবারেই তোমাদের দরজায় টোকা দিচ্ছে। এই পরীক্ষাকে বীরদর্পে মোকাবিলা করতে সবচেয়ে বড় কাজ হবে বছরের শুরু থেকে যে সিলেবাস পড়ে এসেছ তাকে ভালো করে রিভিশন করা। যেমন দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক কঠিন কাজগুলো অনায়াসে সম্পন্ন করি অভ্যাসের বসে ঠিক তেমনি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও যদি প্রতিদিন দিনের পড়া শেষ করতে পারো তাহলে বছর শেষে পরীক্ষার জন্য কোনো টেনশন থাকে না। অবশ্য শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে, মোবাইল ফোন হাতে রাখার অভ্যাস। সময়ে অসময়ে গেম নানা রকম ভিডিও ইত্যাদির দিকে মনোযোগ দেওয়া। এতে প্রচুর সময় নষ্ট হয়, সেই সঙ্গে হয় পড়াশোনায় অপূরণীয় ক্ষতি। এই ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে অন্তত পরীক্ষা চলাকালে।
রাতে ভালোভাবে ঘুমাবে। রাত জাগা একেবারেই চলবে না। নিয়মমাফিক গোসল, খাওয়া-দাওয়া করবে।
পরীক্ষার কেন্দ্রে সময় মতো পৌঁছে যাবে। প্রশ্ন পাওয়ার পরে প্রথমেই খুব ভালো করে পড়ে নেবে।
জানা প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজের ভাষায় যতটা পারো ভালোভাবে শুদ্ধ বানানে লিখে ফেলবে। অজানা বা আনসিন প্রশ্ন ভালোভাবে পড়ে চিন্তা করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবে। খেয়াল রেখো কোনো প্রশ্ন যেন ছেড়ে না আসো।
লেখা পরিষ্কার এবং দ্রুত হতে হবে। পরিচ্ছন্ন উত্তরপত্র পেলে পরীক্ষক খুশি হন। মনে রাখবে পরিচ্ছন্ন খাতা পেলে যিনি খাতা দেখেন তিনি সবসময়ই ভালোবেসে, যত্ন করে নম্বর দেন।
এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তরে তাড়াহুড়ো নয়। কারণ তুমি জানো এমসিকিউ-এর উত্তরগুলো তোমার চোখের সামনেই আছে। ঠা-া মাথায় উত্তর খুঁজে বের করবে। প্রত্যেক পরীক্ষার জন্যই এই পরামর্শ।
পরীক্ষার হলে কারও সাহায্য নেওয়া থেকে বিরত থাকবে। শেষ ঘণ্টা পড়ার অন্তত ৫ থেকে ৭ মিনিট আগে উত্তর লেখা শেষ করলে ভালো হয়। এই সময়ে তুমি খাতা রিভাইজ করতে পারবে। এটা অত্যন্ত জরুরি।
প্রথম পরীক্ষা ভালো হলে দেখবে আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে তোমার। পরবর্তী পরীক্ষা তখন নিশ্চয়ই ভালো হবে।
তোমাদের সাফল্য তোমাদের হাতেই। তোমাদের মঙ্গল হোক। জয় হোক তোমাদের।
হেনা সুলতানা
সিনিয়র শিক্ষক, ভারতেশ্বরী হোমস
মির্জাপুর, টাঙ্গাইল
