ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য নিয়ে সবাইকে তৎপর হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। সভা শেষে বিকেলে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানান।
এদিকে মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে টাঙ্গাইল শাড়ি, নরসিংদীর অমৃত সাগর কলা এবং গোপালগঞ্জের রসগোল্লার জিআই সনদ ও টাঙ্গাইলের শাড়ি হস্তান্তর করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ও সচিব জাকিয়া সুলতানা। এরপর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের কবিতার বই ‘পিতারই প্রতিচ্ছবি’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনটি পণ্যের জার্নাল প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সেগুলোর কপি প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের শাড়ি, গোপালগঞ্জের রসগোল্লা ও নরসিংদীর অমৃত সাগর কলার জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির সনদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আলোচ্যসূচির বাইরে প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘একটি নির্দেশনা তিনি দিয়েছেন যে জিআই পণ্যগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে তিনি সংশ্লিষ্টদের তৎপর হওয়ার জন্য বলেছেন। সবাইকে তিনি তৎপর হয়ে আমাদের যে পণ্যগুলো আছে, সেগুলোর বিষয়ে যাতে উদ্যোগ নিয়ে করে ফেলা হয়।’
ভারত সরকারের টাঙ্গাইল শাড়িকে জিআই নির্দেশক পণ্য হিসেবে সনদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ রকম কনফ্লিকটেড কিছু যদি থাকে, সে জন্য একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা আছে। এ রকম কিছু হয়ে থাকলে আমরা সেখানে যেন সেগুলো উপস্থাপন করি, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
গ্রাম আদালতের জরিমানার ক্ষমতা বাড়ল : গ্রাম আদালতের জরিমানা করার ক্ষমতা ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করতে যাচ্ছে সরকার। এমন বিধান রেখে গতকালের মন্ত্রিসভা বৈঠকে গ্রাম আদালত সংশোধন আইনের খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, গত বছর এই আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এটি সংসদে উপস্থাপন না হওয়ায় এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ায় নতুন মন্ত্রিসভা থেকে অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মন্ত্রিসভা এটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের সমন্বয়ে গ্রাম আদালত হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো সময় একজন অনুপস্থিত থাকলে আদালতের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি হলে অনুপস্থিত যিনি ছিলেন তাকে উপস্থিত হতে সাত দিন সময় দেওয়া হবে। এর মধ্যে তিনি উপস্থিত না হলে তখন ভোটাভুটি হলে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার এক পক্ষ মারা গেলে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এখন বলা হয়েছে, রায়ের আগে কোনো পক্ষের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারকে পক্ষ করা যাবে।
