ঢাবিতে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অধ্যাপকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৬ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে বিভাগের এক ছাত্রীর করা যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রবিবার বিভাগের সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের এ ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, পোস্টার ও ব্যানার হাতে বিভাগের সামনে অবস্থান নেন এবং অধ্যাপক নাদিরকে বয়কটের আহ্বান জানিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার সাঁটান। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে উপাচার্যের কার্যালয় হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে শিক্ষার্থীরা তার শাস্তির দাবি জানান। এরপর চলমান সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিভাগের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা তিনটি দাবি জানান। এগুলো হলো অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন; ‘যৌন নিপীড়ককে’ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনা এবং তদন্ত চলাকালে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সব অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে বিরত রাখতে হবে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাহি নায়াব বলেন, ‘নাদির জুনাইদের যৌন হয়রানির বিষয়টি মিডিয়ার মাধ্যমে সম্প্রতি সামনে এলেও এসব কাজ তিনি আরও অনেক আগে থেকেই করে আসছিলেন। প্রতিটি ব্যাচেরই দুই-তিনজন নারী শিক্ষার্থীকে তিনি টার্গেট করে রাখতেন এবং পরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতেন। প্রতি ব্যাচেই যদি এক-দুজন শিক্ষার্থী থাকেন, তাহলে ২৩-২৪ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি কত শিক্ষার্থীকে হয়রানি করে এসেছেন, সেটাই দেখার বিষয়। আমাদের বোনদের সঙ্গে যে যৌন নিপীড়ন হয়েছে, আমরা তার বিচার চাই। তদন্ত কমিটি করার আশ্বাসে এবার আর কাজ হবে না। আমরা চাই সঠিক তদন্তের পর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।’

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাওয়ার সালসাবিল দুর্দানা বলেন, ‘এ পর্যন্ত তিনটি সেমিস্টারের কোর্স টিচার হিসেবে আমরা নাদির জুনাইদকে পেয়েছি। আমরা কতটা মানসিক ট্রমায় ছিলাম, সেটা বলে বোঝানোর মতো না। তিনি প্রতিটি ব্যাচ থেকেই কয়েকজনকে টার্গেট করেন। তিনি নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে মেধা যাচাই করেন না, যাচাই করেন হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট এবং ফোনের আলাপ দিয়ে। যেকোনো টার্ম পেপার জমা দিতে হলে সেটা তার পছন্দ হবে কি হবে না, সেটা নিয়ে এক-দুই ঘণ্টা ফোনে কথা বলতে হয়। পরে তিনি বলবেন, আমার কথা বলা কম হয়েছে তাই আমাকে তিনি ১০-এ ২-৩ দেবেন। আর ফোনের বলা কথা তার মনঃপূত হলে তাকে বেশি নম্বর দেওয়া হয়।’

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) প্রক্টরকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর আজ (গতকাল রবিবার) শিক্ষার্থীরা আমাকে একটি স্মারকলিপি দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আমি ও বিভাগের দুজন শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সভা করেছি। প্রক্টর সভায় উপস্থিত ছিলেন। উপাচার্য সেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদেরও ডেকে নিয়েছেন। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন যে এ বিষয়ে দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত