খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম ৭ দিনে বাড়ল ৪০ টাকা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:১৭ এএম

ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। তবে এক সপ্তাহ আগেও খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৭০ টাকা। গতকাল রবিবার সেখানকার আড়তগুলোতে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহে ধাপে ধাপে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

অন্যদিকে পাইকারিতে প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজ। চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয়েছে আরও ১০ টাকা বেশি, অর্থাৎ ১২০-১৩০ টাকা কেজি দরে।

খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, সবখানেই রয়েছে ভারতীয় পেঁয়াজ। পাশাপাশি রয়েছে দেশে উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজও।

যদিও গত ৭ ডিসেম্বর থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। স্থলবন্দরগুলো দিয়েও কোনো পেঁয়াজ আসছে না বলে জানান আমদানি-সংশ্লিষ্টরা। তারপরও বাজারে রয়েছে ভারতীয় পেঁয়াজ। এটা কীভাবে সম্ভব তা জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈধ পথে বন্ধ থাকলেও অবৈধ পথে পেঁয়াজ আসা অব্যাহত রয়েছে। নয়তো দুই মাস রপ্তানি বন্ধ থাকার পর এখানে এক কেজি পেঁয়াজও থাকার কথা নয়।’

হিলি বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহীদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ৭ ডিসেম্বরের পর থেকে বৈধভাবে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে যে ভারতীয় পেঁয়াজ রয়েছে, সেগুলো চোরাইপথে আসা। বাজারে পেঁয়াজের মজুদ অনেকটা কমে গেছে। সামনে রমজান মাস। রমজানে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে। এ অবস্থায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি সুরাহা করা না গেলে বাজার পুরোপুরি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন বলে অভিমত দেন তিনি।

তবে আমাদের হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম খোকন জানান, এক রাতের ব্যবধানে সেখানে দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে ১০ টাকা কমে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। 

কিন্তু খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজের মজুদ ক্রমেই কমে আসছে। এই পেঁয়াজ তোলা শেষ হয়ে গেছে। যে কারণে মোকামগুলোতে দেশি পেঁয়াজের মজুদ কমে গেছে। ফলে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। খাতুনগঞ্জের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

তাদের মতে, এত দিন দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে থাকার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকা সত্ত্বেও ঘাটতি দেখা দেয়নি। এখন দেশি পেঁয়াজ কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এ সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পেঁয়াজের দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।

হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, গতকাল পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তিনি জানান, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এ পরিস্থিতিতে নতুন দেশি পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখা না গেলে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

নগরীর আসকারদীঘির পাড়ের মুদিদোকান সুধীর স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুধীর দেব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে কেজি ১২০ টাকা দরে কিনে খুচরায় ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত