দিল্লি ঢুকতে মরিয়া কৃষকরা

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৫৬ এএম

ভারতের উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার ৩৫০টির মতো কৃষক সংগঠনের ডাকে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি ঘিরে গতকাল পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। কৃষকদের মিছিল ও ট্রাক্টর রুখতে ড্রোন থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। ওদিকে দিল্লির চারপাশে কংক্রিকেটের ব্যারিকেড, কাঁটাতার আর পেরেক পুঁতে দুর্গের চেহারা দেওয়া হয়েছে রাজধানীকে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি থেকে পিছু হটতে নারাজ কৃষকরা। তারা বলছেন, ছয় মাস রাজপথে থাকার রসদ নিয়ে তারা ঘর থেকে বের হয়েছেন।

গতকাল কৃষক সংগঠনগুলোর সদস্যদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষটি হয় পাঞ্জাব ও হরিয়ানার মধ্যবর্তী শম্ভু এলাকায়। এ সময় কৃষকদের ওপর ড্রোন থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করা হয়। কৃষকরাও পাথর ছুড়ে এর জবাব দেয়। এর আগে গত সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও কৃষকরা কোনো আশার আলো খুঁজে পাননি।

কৃষকদের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার, পেনশন বীমা, ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণসহ নানা দাবি নিয়ে বেশ কয়েক মাস আগেই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন কৃষকরা। কৃষকরা অভিযোগ করছেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কৃষকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি।

কৃষকদের আন্দোলন ঠেকাতে গত কয়েক দিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকার ও হরিয়ানা রাজ্যের বিজেপি সরকার নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। হরিয়ানা সরকার দুটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী জেলখানা বানিয়েছে এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত দিল্লিতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

গতকাল দিল্লি থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের শম্ভু এলাকায় ‘ধোঁয়া বোমা’ নিক্ষেপ করে এবং কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় কৃষকরা কংক্রিটের ব্যারিকেড উপড়ে ফেলার চেষ্টা করেন। এবারের আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন ‘কিষান মজদুর সংঘর্ষ কমিটি’। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সাওয়ান সিং পান্ধের জানান, ‘এরই মধ্যে শম্ভুতে হাজার হাজার কৃষক জমায়েত হয়েছেন।

কৃষকরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন। কিন্তু  ড্রোন থেকে আমাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে। এই বিক্ষোভ চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না সরকার আমাদের দাবিতে একমত না হয়।’

ভারতের গণমাধ্যমগুলো বলছে, শম্ভু সীমান্তের কংক্রিটের ব্যারিকেড ও প্রতিবন্ধকতা উপড়ে ফেলার চেষ্টা চালাতে গেলে কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। দিল্লির সঙ্গে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাজিয়াবাদ ও চিল্লা পয়েন্ট দুটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যা উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করেছে। এর আগে ২০২০ সালে বড় কৃষক বিক্ষোভের সময় সিংঘু ও টিকরি সীমান্ত ছিল প্রধান কেন্দ্র। এবারও এই দুটি পয়েন্ট বন্ধ করা হয়েছে।  

তবে প্রতিবন্ধকতা উচ্ছেদ করে বিক্ষোভ দীর্ঘকাল চালিয়ে যাওয়ার সব আয়োজন কৃষকদের কাছে আছে বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা। ২০২০ সালে রাকেশ টিকায়েতের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলনে অংশ নেওয়া পাঞ্জাবের কৃষক হরভজন সিং এবারও এসেছেন আন্দোলনে। তিনি জানান, ‘সুই থেকে হাতুড়ি; আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় সবই আছে। এমনকি পাথর ভাঙার যন্ত্রও আছে। আমরা ছয় মাসের খাবার নিয়ে গ্রাম ছেড়েছি। আমাদের কাছে যথেষ্ট ডিজেল রয়েছে; এমনকি আমাদের হরিয়ানার ভাইদেরও জন্যও রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘গতবার কৃষকরা ১৩ মাসেও দমে যায়নি। কিন্তু আমাদের দাবি এখনো পূরণ হয়নি। সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত