ফাল্গুনের বাতাসে মোশাইর মুখে হাসি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:০১ পিএম

আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। ইট-পাথরের নগরীতে প্রকৃতিতে ফুলের উপস্থিতি না থাকলেও বাতাসে লেগেছে বসন্তের ছোঁয়া। একদিকে বসন্তের বার্তা নিয়ে কোকিলের কুহুতান, অন্যদিকে ভালোবাসার সুরে মেতেছে রাজধানীবাসী।

ফাগুনের আগুনে মন রাঙিয়ে বাঙালি তার দীপ্ত চেতনায় উজ্জীবিত হবে আজ। বাসন্তী রঙের শাড়ি, কপালে টিপ, হাতে চুড়ি, পায়ে নূপুর, খোঁপায় ফুল অথবা রিং জানান দিচ্ছে বসন্ত ও ভালোবাসার দিন আজ। প্রকৃতির সঙ্গে নতুন সাজে সেজেছে শিশু ও তরুণ-তরুণীরা। তাদের উচ্ছ্বাস মনে করিয়ে দেয় কবির কবিতার লাইন, ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা প্রাঙ্গণ, টিএসসি, শাহবাগ মোড় ও ধানমন্ডি লেক ঘুরে এমন উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে। এদিকে ফাল্গুন ও ভালোবাসার দিনে ফুল বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। ধানমন্ডি লেকে ফুল বিক্রি করে বাবা-মা হারানো মোশাইর। যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সেই ফুটপাত তার একমাত্র ভরসা। ধানমন্ডি লেকে গোলাপ ফুল বিক্রি করে কাটে তার জীবন।

অন্যদিনে সারাদিন জুড়ে ফুল বিক্রি হয় ২০০ টাকার মতো। তবে আজ সকালবেলা গোলাপ ফুল নিয়ে হাজির হয় ধানমন্ডি লেকে। ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন হওয়ার তার চোখে মুখে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কেননা আজ বেড়েছে ফুল বিক্রি। একটি গোলাপ ৫০ টাকায় বিক্রি করছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৪০০ টাকার ফুল বিক্রি করেছে। এজন্য মোশাইর অনেক খুশি। তার মতো অনেক শিশু ধানমন্ডি লেক, টিএসসি, শাহবাগ ও চারুকলা চত্বরে ফুল বিক্রি করতে দেখা গেছে।

১৪ বছর বয়সী মৌসুমীও তার সঙ্গে ফুল বিক্রি করে। তারা রায়েরবাজার এলাকায় থাকেন। মৌসুমী বলে, আপু-ভাইয়েরা আজ বেশি ফুল কিনতাছে। এজন্য খুশি লাগতাছে। আমাদের টাকাও ইনকাম হচ্ছে। তবে অন্যদিন সারা দিন ঘুরেও ২০০ টাকা ইনকাম হয় না।

এদিকে পয়লা ফাল্গুন ও বসন্তবরণ উৎসব ঘিরে সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় দেখা গেছে মানুষের ভিড়। সবাই মেতেছে এ উৎসবে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ঋতুভিত্তিক উৎসব ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরই এ উৎসবের আয়োজন করে আসছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। এবারের ১৪৩০ বঙ্গাব্দের বসন্ত উৎসবটি ৩০তম।

সকাল সোয়া সাতটায় সেতারে রাগ বসন্তমুখারী বাদন দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলার আয়োজনে সমবেত গান, নৃত্য পরিবেশনা, একক পরিবেশনা, শিশু-কিশোর ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের পরিবেশনা নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ শিরোনামের এ আয়োজন।

বসন্তকথন পর্ব, প্রীতিবন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময় ও আনন্দ শোভাযাত্রা দিয়ে শেষ হয় উৎসবের সকালের পর্ব। সকাল ১০টার দিকে বসন্ত-আনন্দ শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে আবার চারুকলায় ফিরে আসে। জাঁকজমকপূর্ণ এ আয়োজনে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন শিল্পীরা।

বিকেলের পর্ব ‘বসন্ত বিকেল’ শুরু হবে বেলা সাড়ে তিনটায় বেঙ্গল পরম্পরার যন্ত্রসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এ পর্বেও শিশু-কিশোর ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনা, দলীয় সংগীত ও দলীয় আবৃত্তি এবং একক সংগীত ও আবৃত্তিশিল্পীরা পরিবেশন করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত