মেহজাবীন আপুই আদর্শ তার মতো হব

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৪৫ এএম

ছোটবেলা থেকেই শোবিজের প্রতি আগ্রহ ছিল তার এবং সেটাও তার বোনকে দেখে। তার বোন দেশের জনপ্রিয় তারকা মেহজাবীন চৌধুরী। এবার বোনের দেখানো পথেই হাঁটলেন মালাইকা চৌধুরী, নাম লেখালেন শোবিজে। সদ্যই প্রকাশ্যে এসেছে তার বিজ্ঞাপনচিত্র। হিমালয়া ন্যাচারাল গ্লো রোজ ফেসওয়াশের এ বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছেন আদনান আল রাজীব। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সেটি সোশ্যালে শেয়ার করে ছোট বোনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মেহজাবীন।

মালাইকা চৌধুরী জানান, এর আগেও বহু প্রস্তাব এসেছে তার কাছে। আগ্রহ থাকলেও পড়াশোনার কারণে সময় মেলাতে পারেননি। এবার বড় বোনের মাধ্যমে এই বিজ্ঞাপনের প্রস্তাবটি পান। তিনি বলেন, ‘এর আগেও অনেক প্রস্তাব পেয়েছি কিন্তু পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এবার যখন আমার বোন (মেহজাবীন চৌধুরী) বলল যে, ‘তোমার জন্য একটা বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব এসেছে, তুমি করবে কি না!’ তখন আমি ফ্রি ছিলাম, বললাম, ‘হ্যাঁ। করা যায়। এরপরই কাজটি করা।’

প্রথমবারের মতো বিজ্ঞাপনে কাজ করায় কিছুটা নার্ভাস ছিলেন, ছিলেন কিছুটা এক্সাইটেডও। তবে বোন মেহজাবীন তাকে নানাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, রিহার্সেলে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি। মালাইকা চৌধুরী বলেন, ‘আমার এসব নিয়ে কোনো ধারণাই ছিল না যে, কীভাবে করতে হবে বা কী হবে! যেহেতু আমার জন্য এই অভিজ্ঞতাটা প্রথম তাই কিছুটা নার্ভাস ছিলাম আবার কিছুটা এক্সাইটমেন্টও কাজ করছিল। আদনান ভাইয়া এবং তার পুরো টিমটা অনেক বেশি ভালো ছিল, বিশেষ করে আদনান ভাইয়া। তিনি প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে কী করতে হবে। সব মিলিয়ে নতুন এবং খুব দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হলো। এক কথায় অ্যামাজিং।’

বিজ্ঞাপনটি প্রচারে আসার পর তার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো অনেক আগে থেকেই বলে আসছি যে এখানে কাজ করব। তাই এই ব্যাপারটা তাদের কাছে খুব নরমালই লেগেছে। তবে প্রথমবার আমাকে পর্দায় দেখে আমার বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই ভীষণ খুশি।’

শুধু বিজ্ঞাপনটি করার ক্ষেত্রেই নয়, সবসময় সব বিষয়ে মেহজাবীনই মালাইকার সবচেয়ে বড় সাপোর্ট। তিনি বলেন, ‘শুধু এই সেক্টরের বিষয়ই না, সব বিষয়ে আপু ভীষণ সাপোর্টিভ। আমার যেকোনো সমস্যায় আমি ওর কাছেই যাই এবং সে আমাকে পরামর্শ দেয়। এই কাজটি করার সময়ে আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে, ওর সামনে প্র্যাকটিস করেছি। সে একটা কথাই বলেছে আগে হোক পরে হোক এটা তোমাকে করতেই হবে। এক্সাইটমেন্ট থাকবে, নার্ভাসনেস থাকবে। জাস্ট গো উইথ দ্য ফ্লো।’

মালাইকা আরও বলেন, ‘যখন খুব ছোট তখন বুঝতাম না অনেক কিছু। তারপর আপু যখন লাক্স-এ গেল আমার বয়স ছয় কিংবা সাত, তখন আপুকে টেলিভিশনে দেখে আমারও ইচ্ছে হলো যে, আমিও আপুর মতো হব। কারণ সে আমার আইডল। এরপর অনেকেই বলে যে আমি দেখতেও নাকি অনেকটা আপুর মতো। আমাদের টুইনস বলে। এরপর একদম মাথায় সেট হয়ে গেল এ লেবেল শেষ হলে তারপর হয়তো কাজ শুরু করতে পারি এবং আমি তার মতোই হব।’

নিজের বোনের কাজ দেখার পাশাপাশি অনেকেরই কাজ দেখেন তিনি। তার পছন্দের অভিনয়শিল্পীর তালিকায় রয়েছে জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশোর মতো তারকারা। পছন্দ করেন তাসনিয়া ফারিণের কাজও। সুযোগ পেলে অভিনয়ও করতে চান জানিয়ে মালাইকা বলেন, ‘কাজ করতে চাই। তবে এখনো আমি প্রস্তুত নই। যেহেতু বিজ্ঞাপনটাই প্রথম ছিল এরপর কিছুদিন সময় নিতে চাই। এরপর হয়তো করা হতে পারে। তবে এখনই না।’

 মালাইকা চৌধুরী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান এবং ব্যবস্থাপনা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত