‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’ আবারও নাকচ নেতানিয়াহুর

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩৪ এএম

গাজায় অব্যাহত বেসামরিক প্রাণহানির মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিল। ইসরায়েল এই মুহূর্তে যখন রাফাহ শহরকে কেন্দ্র করে স্থল অভিযান জোরদারের কথা বলছে, আল নাসের হাসপাতালে চূড়ান্ত আক্রমণ চালাচ্ছে; ঠিক সেই মুহূর্তে বিশ্ববাসী গাজায় আর বেশি নৃশংসতা না চালানোর আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের উদ্যোগকে আরও একবার নাকচ করে দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার আরব মিত্র দেশগুলো মিলে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করছে যেখানে ফিলিস্তিনের স্বাাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং ‘স্বাধীন’ ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠার স্থায়ী রূপরেখা প্রণয়ন করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আসবে এ সংক্রান্ত ঘোষণা। সামগ্রিকভাবে দুই রাষ্ট্র সমাধানের ওপর জোর দিয়ে পরিকল্পনা হচ্ছে বলে জানা যায়।

আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনেক দেশও ইসরায়েলের পাশে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছে। এ ছাড়া দুই রাষ্ট্র সমাধানের বিষয়ে আরব নেতাদের সম্মতিও রয়েছে। এ অবস্থায় গাজা যুদ্ধের অব্যাহত প্রাণহানির মধ্যে বিশ্বব্যাপী স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ২৮ হাজারেরও বেশি প্রাণসংহারী গাজা যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করে রাফাহতে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পরিকল্পনা করছেন নেতানিয়াহু। গাজার আল নাসের হাসপাতালে সর্বশেষ ভয়ংকর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মিসরে যুদ্ধবিরতির আলোচনাও এগিয়ে যাচ্ছে না। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের পর গতকাল শুক্রবার নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মাথানত করবেন না। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে স্থায়ীভাবে সহাবস্থানের আন্তর্জাতিক চাপকে ইসরায়েল স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একতরফা স্বীকৃতির বিরুদ্ধে ইসরায়েল বিরোধিতা জারি রাখবে।’ তিনি আরও বলেন, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ‘রাষ্ট্রত্ব (স্টেটহুড)’ স্বীকৃতি বড় পুরস্কার হয়ে দাঁড়াবে। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত আলোচনা শুধু তখনই আলোর মুখ দেখবে যখন সরাসরি দুপক্ষের আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মধ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

পশ্চিম তীরে দখলকৃত জায়গায় বসবাসকারী ইসরায়েলি মন্ত্রী বেজালেল স্মটরিট বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ‘ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্যই হুমকি’।

নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নেতানিয়াহুর কোনো উপহার বা দয়া নয়। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও বৈধ আন্তর্জাতিক সনদের ভিত্তিতে একটি অধিকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত