মানসম্পন্ন বই প্রকাশ হচ্ছে কম

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:১২ এএম

কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক জিয়া হাশানের জন্ম ১৯৬৬ সালে পিরোজপুরে। তার উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে হারুকি মুরাকামির উপন্যাস শোনো বাতাসের সুর (অনুবাদ) সারাটি রাত্রি তারাটির সাথে তারাটিরই কথা হয় (গল্পগ্রন্থ), খেয়ালি ভুঁই ও তার ফসল বিন্যাস (গল্পগ্রন্থ), বুড়িগঙ্গায় কালো জাহাজ (কিশোর গল্পগ্রন্থ)। কথা বলেছেন সালাহ উদ্দিন শুভ্র

আপনার কী কী বই আসছে বইমেলায়?

জিয়া হাশান : এবারের বইমেলায় আমার দুটো বই আসছে। দুটোই গল্পের বই। একটার নাম ‘দুপুরের পাড়ে, পুকুরের আড়ে’। এটা প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী। আরেকটা শিশু-কিশোর গল্পের বই। তার নাম ‘দুই নাবিকের অ্যাডভেঞ্চার’। ইগনাইট পাবলিকেশনস এই বইটা প্রকাশ করেছে। তবে বইটি মেলায় আনছে ইউপিএল প্রকাশনা সংস্থা।

আপনার বই পাঠককে কেন পড়তে বলবেন?

জিয়া হাশান : এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে হলে নিজের বইয়ের প্রশংসা নিজেরই করতে হয়, যা আমার জন্য দুরূহ একটা ব্যাপার। তা ছাড়া আমি কোনো পাঠককে আমার নিজের বই পড়তে বলি না। বরং পাঠক তার নিজের পাঠ-চাহিদার কারণেই আমার বই পড়ে। আগামীতেও পড়বে বলে বিশ্বাস।

বই পৌঁছানোর কোনো কৌশল কি আপনি অবলম্বন করেন?

জিয়া হাশান : বই পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব প্রকাশকের। তাদেরই উচিত বইটা পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার আধুনিক সব কায়দা-কৌশল অবলম্বন করা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য, আমাদের বেশিরভাগ প্রকাশকই সেটা করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন না। এমনকি কেউ কেউ নেওয়ার কথা ভাবেনও না। তারপরও আমি নিজে পাঠকদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার জন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করি না। কারণ লেখকের কাজ লেখা এবং একটা লেখা থেকে আরেকটা লেখার অগ্রগতি অব্যাহত রাখার জন্য সার্বিক প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া।

আমাদের বই প্রকাশ অনেকটা ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

জিয়া হাশান : বই নিয়ে শুধু ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক এই যজ্ঞ দেশের সাহিত্যের কোনো উপকারে আসবে বলে আমার মনে হয় না। যাদের সারা বছরে লেখালেখি নিয়ে কোনো খোঁজখবর থাকে না কিন্তু ফেব্রুয়ারি এলেই তারা বিপুল উৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়েন বই প্রকাশে ও তার প্রচারে। এ রকম প্রবণতা আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে ব্যাপকভাবে দেখা গেলেও অতীতেও তা ছিল অন্য আরও নানাভাবে। কিন্তু তা সাহিত্যে কোনো উপকারে আসেনি। তাই বর্তমানে যে প্রবণতা তাও সাহিত্যের কোনো উপকারে আসবে বলে মনে হয় না। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, এসব প্রবণতার কারণে ফেব্রুয়ারি মানে বইমেলায় বই বিক্রির পরিমাণ অনেক বেড়েছে। তাই দেখা যায়, মাস শেষে বইমেলা কর্র্তৃপক্ষ বই বিক্রির যে হিসাব দেন তার পরিমাণ বছর বছর বেড়েই চলছে। তবে তা বইক্রেতাদের মেধা-মনন বিকাশে মোটেই প্রভাব বিস্তার করছে না।

কেউ বলেন, বইয়ের পাঠক কমেছে। আবার কেউ বলে বেড়েছে। আপনার পর্যবেক্ষণ কী বলে?

জিয়া হাশান : আমার মনে হয়, পাঠকের সংখ্যা ঠিকই বেড়েছে। তাই বইমেলায় প্রচুর পরিমাণ বিক্রি-বাটা হচ্ছে। কিন্তু যেহেতু দেশে মানসম্পন্ন বই প্রকাশিত হচ্ছে খুবই কম, তাই তা পাঠকদের মেধা-মনন বিকাশে কোনো প্রভাব সৃষ্টি করতে পারছে না। ফলে বই প্রকাশের সংখ্যা ও পাঠক বাড়লেও সমাজে তার কোনো প্রতিফলন নেই।

বইমেলার আয়োজন ও পুরস্কার নিয়ে বাংলা একাডেমির ভূমিকাকে কেমন দেখছেন এবং কেমন হতে পারে?

জিয়া হাশান : বাংলা একাডেমি খুবই দায়সারা ও গতানুগতিকভাবে বইমেলার আয়োজন করে। তাই দেখা যায় এক বছর বইমেলায় যে সমস্যা দেখা দেয়, পরের বছরও একই সমস্যা রয়ে যায়। তারা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে বইমেলার আয়োজন করত, তাহলে এক বছরের মেলা থেকে তার পরের মেলা আরও উন্নত হতো। এভাবে প্রতিবছর থেকে শিক্ষা নিয়ে আগাতে থাকলে আজকে বইমেলা বারোয়ারি-বাজারি মেলা থেকে আরও অনেক সুন্দর এবং আন্তর্জাতিকমানসম্পন্ন মেলায় পরিণত হতো। আর বাংলা একাডেমির পুরস্কারের অবস্থা দিন দিন এতই করুণ এবং মানহীনে পরিণত হয়েছে যে, তা নিয়ে এখন আর কথা বলার কিছু নেই।

বইমেলাকে কীভাবে লেখক-পাঠক ঘনিষ্ঠ করে তোলা যায়?

জিয়া হাশান : বইমেলা আয়োজন করা বাংলা একাডেমির একটা কাজ। এখানে তারা নিজেরাই সবকিছু করে। এ আয়োজনের সঙ্গে লেখক-পাঠকদের সম্পৃক্ত করে মেলার সঙ্গে লেখক-পাঠকদের ঘনিষ্ঠ করে তোলা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত