ইভ্যালির রাসেল পরোয়ানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:১৪ এএম

২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কান্দি কালিয়াপুর গ্রামের আলে আহমদের ছেলে ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা (সিইও) মো. রাসেলকে (৪৩) এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার অর্থদন্ড দেয় কক্সবাজারের একটি আদালত।

রায়ের এক বছর পেরিয়ে গেলেও রাসেল জামিন নেননি বা গ্রেপ্তার হননি; বরং দন্ড পরোয়ানা নিয়েই ঢাকায় থেকে প্রতারণার অভিযোগে বন্ধ থাকা ইভ্যালির কার্যক্রম আবার চালুর চেষ্টা করছেন।

পুলিশ ও আদালতের তথ্যমতে, ২০২১ সালের ১৩ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার নিজপানখালী গ্রামের আবদুল গণির ছেলে এম সোহেল মাহমুদ পাঁচটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে অগ্রিম ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন।

চুক্তি অনুযায়ী ৪৫ দিনের মধ্যে গ্রাহককে মোটরসাইকেলগুলো বুঝিয়ে দিতে পারেনি ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ। পরে গ্রাহক একই বছরের ২৯ আগস্ট ইভ্যালির রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে নগদ টাকার বদলে সিটি ব্যাংকের (ধানমন্ডি শাখা, হিসাব নং-১৪৫২৮৮১০২৬০০১ ও চেক নং-২২৫২৮৭৪) ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার চেক দেন। ২৮ সেপ্টেম্বর বাকি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার আরেকটি চেক দেন রাসেল।

ইসলামী ব্যাংক চকরিয়া শাখার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই উল্লেখ করে একই বছরের ১৯ ও ২৫ অক্টোবর চেক দুটি প্রত্যাখান করে ডিজঅনার স্লিপসহ অভিযোগকারীকে ফেরত দেয়। অতঃপর ওই বছরের ২৮ অক্টোবর ইভ্যালির সিইও মো. রাসেলকে লিগ্যাল নোটিস পাঠান গ্রাহক সোহেল। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর নোটিসটি গ্রাহকের কাছে ফেরত আসে।

পরে গ্রাহক সোহেল ওই বছরের ৩০ নভেম্বর রাসেলের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি রাসেলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জ) গঠন করে আদালত। একই বছরের ১৯ জানুয়ারি পাঁচজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মামলার রায় ঘোষণা করেন কক্সবাজারের যুগ্ম দায়রা জজ (১ম) আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান। রায়ে অভিযুক্ত মো. রাসেলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদ- ও ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার অর্থদন্ড দেওয়া হয়। একই দিনে রাসেলের বিরুদ্ধে সাজার পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত এবং পরোয়ানার কপি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কক্সবাজার ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠাতে বলে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. গোলাম ছরওয়ার বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আসামির সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত আসামি গ্রেপ্তার হননি বা সংশ্লিষ্ট মামলায় জামিন নেননি। আসামি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। বিষয়টি রহস্যজনক।’

মামলার বাদী সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘মামলা হলো, রায়ও হলো। আর সাজাপ্রাপ্ত আসামি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। টাকাও পাওয়া যাচ্ছে না।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম বলেন, ‘রায়ের পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ম মতে অবশ্যই আদালত সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়েছে। ওখানে একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জমা থাকার কথা।’

সাভার থানার ওসি আকবর আলি খান বলেন, ‘আমি নতুন জয়েন করেছি। বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার কাছে আদালতের স্মারক নম্বর থাকলে দেন আমি খুঁজে দেখব।’ 

কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান ইলাহী নূরী বলেন, ‘এক বছর আগের পরোয়ানা। তখনই আমরা পাঠিয়ে দিয়েছি।’

একাধিক সূত্র বলছে, রাসেলের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গ্রাহকদের ২ হাজার ৫৬১টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাবাসও করেছেন। ২৮ মাস জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আবার ইভ্যালির কার্যক্রম চালু করেছেন। ৪ ফেব্রুয়ারি ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে ১৫০ জনের ১৫ লাখ ঢাকা ফেরত দিয়েছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ইভ্যালির বিরুদ্ধে ১১ হাজার ৯১টি অভিযোগ রয়েছে। নিষ্পত্তি হয়েছে ৪ হাজার ৪৯৫টির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত