চট্টগ্রামে দুই মাস ধরে নিউমোনিয়ার টিকা সরবরাহ বন্ধ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৪:২০ পিএম

চট্টগ্রামে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে দুই মাস ধরে নিউমোনিয়া প্রতিরোধের টিকা নিউমোকক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (পিসিভি) সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিনই অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে টিকা কেন্দ্রে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ে শিশুদের টিকা দিতে না পেরে উদ্বিগ্ন তারা। শিশুদের অন্যান্য টিকার পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও পিসিভি টিকার সংকটের কথা স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ। কবে নাগাদ পিসিভি টিকার সংকট ঘুচবে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছুই জানাতে পারেনি তিনি। তবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পিসিভিসহ যেকোনো ধরনের টিকার সংকট নেই বলে দাবি করেছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম আহসান।

এদিকে চট্টগ্রামের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতেও পিসিভি ভ্যাকসিনের পাশাপাশি শিশুদের অত্যাবশ্যকীয় অন্যান্য টিকারও সংকট আছে বলে জানা গেছে।

হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সোনিয়া সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বলেন, ‘শুধু পিসিভি নয়, শিশুদের অন্যান্য টিকারও সংকট আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পিসিভিসহ শিশুদের সব ধরনের টিকা সংকট ঘুচে যাবে বলে সোমবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আমাদের জানানো হয়েছে।’

নগরে সরকারি হাসপাতালে না পেয়ে সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নগরের উত্তর আগ্রাবাদ এলাকায় বেসরকারি টিকাদান কেন্দ্র সূর্য্যের হাসি ক্লিনিকে শিশুর পিসিভি টিকা নিতে যান সংবাদকর্মী আকমাল হোসেন। তিনি জানান, শিশুকে পিসিভি টিকা দিতে গত কয়েকদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে ছুটছি। কিন্তু মিলছে না টিকা। যেখানেই যাচ্ছি বলছে-পিসিভি টিকা নেই।’

উত্তর আগ্রাবাদ এলাকায় বেসরকারি টিকাদান কেন্দ্র সূর্য্যের হাসি ক্লিনিকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দুই মাস ধরে পিসিভি টিকার সরবরাহ নেই। সরকারি হাসপাতালেও মিলছে না এই টিকা। অভিভাবকরা হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’

নগরের খুলশি এলাকার গৃহবধূ ফারজানা ইয়াছমিন বলেন, ‘আমার ছেলের পিসিভি টিকা নিতে খুলশি এলাকার বেসরকারি একটি ক্লিনিকে গেলেও টিকা মেলেনি। পরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল গিয়েছি, সেখানেও টিকা মিলেনি। দুশ্চিন্তার শেষ নেই। দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’

নাম প্রকাশ না করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের দুজন স্বাস্থ্য সহকারী জানান, পিসিভি ভ্যাকসিন না থাকায় শিশুদের নিয়মিত টিকা দিতে পারছেন না তারা। এতে টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সাত সপ্তাহ বয়সী সন্তানের জন্য পিসিভি টিকা নিতে গিয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন মুহাম্মদ আবদুল্লাহ নামের এক অভিভাবক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি একাধিক  হাসপাতালের টিকা কেন্দ্রে গিয়েছি। কিন্তু তারা বলছে পিসিভি ভ্যাকসিন নেই।’

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় জন্মের এক বছরের মধ্যে শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে বিসিজি, পেন্টাভ্যালেন্ট, পিসিভি, ওপিভি (ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন), আইপিভি (ইনঅ্যাকটিভেটেড পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন), এমআর (হাম-রুবেলা) ও হামের টিকা দেওয়া হয়।

এর মধ্যে পেন্টাভ্যালেন্ট একটি সমন্বিত টিকা, যা ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হেপাটাইটিস বি ও হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি, ধনুষ্টঙ্কারের প্রাণঘাতী পাঁচটি রোগ থেকে রক্ষা পেতে নবজাতককে সাহায্য করে। শিশুদের সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠার লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিনামূল্যে জেলার সব সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের এই সাত ধরনের টিকা দেওয়া হয়। চট্টগ্রামে এই সাতটির মধ্যে নবজাতকের খুব প্রয়োজনীয় পিসিভি টিকার ভান্ডার দুই মাস ধরে শূন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত