দুই শিশুর মৃত্যু আইইডিসিআর দল রাজশাহীতে

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩১ এএম

রাজশাহীতে বরই খেয়ে অসুস্থ হয়ে তিন দিনের ব্যবধানে দুই বোনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে আইইডিসিআর। আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে মৃত দুই শিশুর বাবা ও মাকে রামেক হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়িতে আইসোলেশনে থাকবেন। অসুস্থতার লক্ষণ দেখে দুই শিশুর মারা যাওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল নিপাহ ভাইরাসের কারণে তারা মারা গিয়ে থাকতে পারে। তবে নমুনা পরীক্ষার পর আইইডিসিআর জানিয়েছে, নিপাহ ভাইরাসে নয়, অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

বরই খেয়ে অসুস্থ হয়ে মারিশা ও মাশিয়ার মৃত্যুর পর তাদের নমুনা পাঠানো হয় ঢাকায় আইইডিসিআরে। দুই শিশুর মৃত্যুর পরে তাদের বাবা-মাকে হাসপাতালের নিপাহ ওয়ার্ডের আইসোলেশনে রাখা হয়। গত রবিবার সন্ধ্যায় আইইডিসিআর থেকে জানানো হয় এই দুই শিশু নিপাহ ভাইরাসে মারা যায়নি। অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। অন্য কোন কারণে তাদের মৃত্যু এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য কাজ শুরু করছে। গতকাল সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে আসা আইইডিসিআরের তিন সদস্যের তদন্ত টিম শিশুদের বাবা মিজানুর রহমান ও মা পলি খাতুনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের রোগের কেস হিস্ট্রির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেন তারা। এ ছাড়া মৃত দুই শিশুর নমুনাও সংগ্রহ করেছেন প্রতিনিধিদল।

পরে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহমেদ বলেন, মৃত দুই শিশু ও তারা বাবা-মা কী রোগে আক্রান্ত তার সঠিক কারণ বের করতে আইইডিসিইআর অধিকতর তদন্তের জন্য এখানে এসেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ বের করতে তারা কাজ করছে। ঢাকায় পাঠানো আগের নমুনা আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মৃত শিশুর পাকস্থলীর খাবারের নমুনা হাসপাতালে সংরক্ষণ করে রাখা আছে। পাকস্থলী ঢাকায় পাঠিয়ে বিষক্রিয়া ছিল কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

এদিকে রামেক হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ওই দুই সন্তানের বাবা-মায়ের গতকাল জ¦র ছিল। আজকে আর জ¦র নেই। যেহেতু কোনো ভাইরাস এখনো শনাক্ত করা যায়নি, সেহেতু তাদের নিজ বাসাতেই আইসোলেশনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও আজকেই রিলিজ দেওয়ার জন্য বলেছি।

রামেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে গত শনিবার বিকেলে মারা যায় বড় মেয়ে মাশিয়া। গত বুধবার একই লক্ষণ নিয়ে মারা যায় ছোট মেয়ে মারিশা। পরে শিশুদের বাবা-মাকে হাসপাতালের নিপাহ আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত