পাঠক কমেছে প্রমাণ নেই

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩৯ এএম

কবি সোহেল হাসান গালিবের জন্ম ১৫ নভেম্বর ১৯৭৮ সালে টাঙ্গাইলে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছেন। তার প্রকাশিত কবিতার বই চৌষট্টি পাখুড়ি, দ্বৈপায়ন বেদনার থেকে, রক্ত মেমোরেন্ডাম,অনঙ্গ রূপের দেশে, তিমিরে তারানা, ফুঁ, দরজায় আইভিলতা। প্রবন্ধ : বাদ মাগরিব (ভাষা-রাজনীতির গোপন পাঠ)। কথা বলেছেন সালাহ উদ্দিন শুভ্র

আপনার কী কী বই আসছে বইমেলায়?

সোহেল হাসান গালিব : এ মেলায় আসার কথা ছিল তিনটি বই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসছে একটি : ‘আমার খুতবাগুলি’। এই এক বইয়ে অবশ্য সবই আছে। গদ্য-পদ্য মিলিয়ে এটা এক ধরনের নন-জেনরিক লেখা। বইটি প্রকাশ করছে উজান পাবলিকেশন।

আপনার বই পাঠককে কেন পড়তে বলবেন?

সোহেল হাসান গালিব : যে কারণে আমরা পরস্পরের সঙ্গে মিশি, কথা বলি, ঠিক সে কারণেই বই লিখি। এবং যে কারণে আশা করি অন্যে আমার কথাটি শুনবে, সে কারণেই বই পড়বে কেউ কেউ। সমস্ত কিছুর মূলে আছে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়ার আকাক্সক্ষা। লেখা জিনিসটি এমন, যা লেখকের অনুপস্থিতিতেও তার হয়ে কথা বলে। পাঠককে আমার লেখা পড়তে বলি বা বলতে পারি শুধু এইটুকু ভরসায়, হয়তো সেখানে পাঠক নিজেকেই খুঁজে পাবেন, আবিষ্কার করবেন তারই কোনো ব্যথিত নির্জন গুহা।

বই পৌঁছানোর কোনো কৌশল কি আপনি অবলম্বন করেন?

সোহেল হাসান গালিব : তেমন কোনো বিশেষ কৌশল আমার জানা নেই। তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার পাশাপাশি বইকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন তর্ক-আড্ডার আয়োজনের কথা ভাবি। যতটুকু ভাবি ততটুকু কার্যকর করে তোলা প্রায়ই সম্ভব হয় না। কারণ আমাদের এখানে এসব নিছক আত্মপ্রচার হিসেবে বিবেচিত। প্রোপাগান্ডাও বলা হয়ে থাকে, যা লেখক-ব্যক্তিত্বের জন্য হানিকর। তা ছাড়া এ ব্যাপারে প্রকাশকের ভূমিকা প্রায় দর্শকের। যেন কিছুই করার নেই তার। কোনো দায়ও নেই।

আমাদের বই প্রকাশ, প্রচার, আলোচনার প্রবণতা অনেকটা ফেব্রুয়ারি মাসকেন্দ্রিক। বছরের বাকি ১১ মাস কোনো খোঁজ থাকে না। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

সোহেল হাসান গালিব : এর জবাব সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন প্রকাশকরা। তবে আমি একটা পয়েন্ট উল্লেখ করতে পারি। আমাদের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমে সিনেমা এমনকি খেলার খবর নিয়মিত ছাপা হয়। কৃষিসংবাদও তেমনি। কিন্তু যাকে বলা হয় মননের চাষাবাদ, সে সম্পর্কে গণমাধ্যমগুলো বোবাকালা হয়ে থাকে সারা বছর। তারাও শুধু ফেব্রুয়ারি মাস এলেই নড়েচড়ে বসে। বছরের বিভিন্ন সময় বই তো প্রকাশিত হয় ঠিকই, কিন্তু তার কোনো হদিস থাকে না আমাদের কাছে। বইয়ের খবর বলে একটা ক্যাটাগরি সেখানে যুক্ত হতে পারে। অন্তত সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক। বই নিয়ে টকশোও হতে পারে নিয়মিত, যদি সত্যিই আমরা বই প্রকাশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকি। এসব উদ্যোগ হয়তো পরিস্থিতিকে অনেকখানি পাল্টে দেবে।

কেউ বলেন, বইয়ের পাঠক কমেছে। আবার কেউ বলে বেড়েছে। আপনার পর্যবেক্ষণ কী বলে?

সোহেল হাসান গালিব : বইয়ের পাঠক কমেছে, এর কোনো জোরালো প্রমাণ আমি দেখি না। বইয়ের চাহিদার রকমফের আছে। ফিকশনের তুলনায় নন-ফিকশনের পাঠক বেড়েছে বলে আমার ধারণা।

বইমেলার আয়োজন ও পুরস্কার নিয়ে বাংলা একাডেমি সম্পর্কে একটা সমালোচনা রয়েছে। সার্বিকভাবে বাংলা একাডেমির ভূমিকাকে কেমন দেখছেন এবং কেমন হতে পারে?

সোহেল হাসান গালিব : পুরস্কারের ক্ষেত্রে শুধু বাংলা একাডেমি নয়, সমস্ত রাষ্ট্রীয় পুরস্কারেরই অবনমন ঘটেছে মর্যাদার প্রশ্নে। রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক সামর্থ্য, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এখন মূল মাপকাঠি। ফলে, রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাওয়া মানে তাকে আমরা লেখনীতে নয়, লবিংয়ে শক্তিশালী বলে স্বীকার করে নিই। নানা যোগসাজশে ভক্তিপরায়ণ হওয়ার প্রকটনে ওই লেখক যে লেখালেখির অনটনে পড়বেন, তা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়।

গবেষণা ও পুস্তক প্রকাশনার ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির অবস্থা আরও শোচনীয়। নতুন উদ্যোগের প্রশ্ন মুলতবি রেখেই বলছি, পুরনো গুরুত্বপূর্ণ বইগুলোও এখানে পাওয়া যায় না। এমনকি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর রচনাবলিও নেই তাদের কাছে।

বইমেলাকে কীভাবে লেখক-পাঠক ঘনিষ্ঠ করে তোলা যায়?

সোহেল হাসান গালিব : বইমেলা যথেষ্টই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে লেখক-পাঠকের কাছে। তবে তা ঢাকায়। দেশের অন্যান্য বিভাগে পালাক্রমে মেলার আয়োজন করলে বইয়ের উৎসব ব্যাপারটিকে বছরব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তখন হয়তো বই প্রকাশ শুধু একুশের মেলাকেন্দ্রিক না হয়ে ওইসব মেলাকে লক্ষ করেও আবর্তিত হবে। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে এমন আয়োজন করার কিছু নমুনা আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে। সেটিকে জোরালো করা দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত