চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি ফরম বিক্রি করে ২৩ কোটি টাকা আয় হয়েছে। সার্ভিস চার্জসহ কিছু খরচ বাদ দিলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২১ কোটি টাকা। তবে ভর্তি ফরম বিক্রির এই ২৩ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, শিক্ষক ও ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে গেছে বলে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু।
তিনি দাবি করেন, ভর্তি ফরম বিক্রির কোনো টাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফান্ডে জমা হয়নি। তবে সাংসদ চুন্নুর মন্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে তার বক্তব্যের পর মুখ খুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ভর্তি পরীক্ষায় ব্যয়ের নামে প্রশাসন কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা দাবি করেন, প্রতি বছরের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা খরচ হয়। বাকি টাকার কোনো সঠিক হিসাব প্রশাসন দেখাতে পারে না। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সমিতির নেতারা।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হক বলেন, প্রশাসনের অপকর্মের চিত্র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি মহান জাতীয় সংসদে পর্যন্তও পৌঁছে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতের অর্থ প্রশাসন নিজেদের মধ্যেই ভাগ-বাটোয়ারা করে নিচ্ছে। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রির হিসাব তারা দিতে পারছে না।
তিনি আরও বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় কত টাকা খরচ হয় আমরা শিক্ষক সমিতির সদস্যরা সেটার একটা আনুমানিক হিসাব করেছি। আমাদের কয়েকগুণ বাড়তি হিসাবমতে, ভর্তি পরীক্ষায় বড়জোর ১০ কোটি টাকা খরচ হয়।
এ সময় সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, এ প্রশাসন চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। তাছাড়া সংবিধিবদ্ধ কোনো পরিষদে তাদের জবাবদিহিতা না থাকার কারণে তারা এমন বেপরোয়া হয়ে গেছে।
এছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষকদের সম্মানি বাড়ানোর জন্য শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বহুবার চেষ্টা করা হলেও প্রশাসন সে বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের নিয়ে গঠিত 'ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি' কর্তৃক উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের সম্মানি নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু সম্মানি নির্ধারণ সম্পর্কিত সভায় শিক্ষক সমিতির কোনো প্রতিনিধিকে রাখা হয়নি বলে জানায় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ।
এদিকে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু যে মন্তব্য করেছেন তা অনভিপ্রেত, অগ্রহণযোগ্য ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কে জাতীয় সংসদের এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর দেওয়া বক্তব্যটি অগ্রহণযোগ্য, অনভিপ্রেত ও ভিত্তিহীন। ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য খরচের বিভিন্ন খাত ডিনস কমিটি কর্তৃক সুনির্দিষ্ট করা আছে। এর মধ্যে পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, অনলাইন আবেদন গ্রহণ, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, কম্পোজ, ছাপানো, ফটোকপি, প্যাকেজিং, উত্তরপত্র ছাপানো, ফলাফল প্রস্তুত ও ছাপানো, কাগজপত্র ও স্টেশনারী ক্রয়, পরিদর্শকের সম্মানি, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মানি, আপ্যায়ন, পরিবহনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় করা হয়।
ভর্তি পরীক্ষার টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব আয় হিসেবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সংসদ সদস্য চুন্নুর বক্তব্য অনুমান নির্ভর বলে এতে তুলে ধরা হয়।
পেঁয়াজ আসবে দেশে, অপেক্ষা শুধু কাগজের
‘দই বেচে বই বিলানো’ জিয়াউলের পাশে দাঁড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বোরকা পরে হলে ইব্রাহীম, এসেছিলেন বোনের পরীক্ষা দিতে
হল প্রাধ্যক্ষকে ছাত্রলীগ নেতার হুমকি, কক্ষ সিলগালা
শেওড়াপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ