ওপারে কমেছে গোলাগুলি রাখাইন থেকে সরছে জান্তা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩০ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তের পর এবার টেকনাফ সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলি কমেছে। তবে ফের সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দারা।

এদিকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার অনুগত সেনারা রাখাইন রাজ্যের ঘাঁটিগুলো থেকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে। আবার যেসব ভারী যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তাৎক্ষণিক সরানো যাচ্ছে না, সেগুলো ধ্বংস বা পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বেসামরিক গ্রামে হামলার পাশাপাশি বাড়িঘর জ¦ালিয়ে দেওয়া অব্যাহত রেখেছে তারা। বিদ্রোহী সংগঠনগুলো এমন দাবি করেছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সীমান্তের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মাসের শেষ দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের তমব্রুর সীমান্ত ঘেঁষে মিয়ানমারের ভেতরে সে দেশের জান্তা সরকারের অনুগত সেনাবাহিনী ও স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ধীরে ধীরে তমব্রু থেকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে টেকনাফের দিকে। গেল কয়েক দিন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের বিপরীত দিকে মিয়ানমারের ভেতরে গোলাগুলির তীব্রতা বাড়ে। তবে গতকাল মঙ্গলবার সীমান্তে ওপারের বোমা হামলা, মর্টার শেল ও গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়নি। তবে প্রতিদিন রাতে এবং সকালে কয়েক রাউন্ড করে গুলির শব্দ শুনতে পান সীমান্তের বাসিন্দারা। গত সোমবার রাতে শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা সীমান্তে পাঁচ-সাতটি গুলির আওয়াজ শোনা গেছে।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম বলেন, ‘কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গেলেও তা ছিল খুব কম আওয়াজের। মিয়ানমারে মর্টার শেল ও গোলাগুলি কমায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কিছুটা কমেছে। তবুও লোকজন সতর্ক রয়েছে। সীমান্তে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’

শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট এলাকাসহ টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে। নদীতে টহল দিচ্ছেন কোস্টগার্ড ও বিজিবির সদস্যরা।

টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার এইচএম লুৎফুল লাহিল মাজিদ বলেন, ‘অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে কোস্ট গার্ডের টহল বাড়ানো হয়েছে।’

আর টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সীমান্ত ও সীমান্তবাসীদের সুরক্ষায় বিজিবি বদ্ধপরিকর। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

রাখাইনের ঘাঁটিগুলো থেকে যুদ্ধ সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে জান্তা : রাখাইনের জাতিগত বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি এবং আরও তিনটি সংগঠন নিয়ে গঠিত জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স দাবি করেছে, সামরিক জান্তা রাখাইনের মিয়েবোন টাউনশিপের হিন খা ইয়াউ গ্রামের কাছের সেনাঘাঁটি থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। হেলিকপ্টারে সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছে তারা। এ ছাড়া ওই ঘাঁটির ভারী সরঞ্জামের যেগুলো বহন করা যাচ্ছে না, সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কিংবা যেকোনো উপায়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।  

আবার জান্তার অনুগত সেনারা কিয়াকফিউ টাউনশিপের থিট পটে তাউং নামে একটি এলাকায় ছয়টি বাড়ি জ¦ালিয়ে দিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। গত রবিবার তারা ওই বাড়িগুলো ধ্বংস করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত