পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি ইরান

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:০১ এএম

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিবাদ দীর্ঘদিনের। গাজা যুদ্ধের কারণে যখন মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা বহুগুণ তীব্র, ঠিক সেই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রসি গত সোমবার ইরানের পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি ইরান যেতে চাইলেও তেহরান তার এই সফরের অনুমতি দিচ্ছে না। ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ এসলামি জানান, আগামী মাসে গ্রসিকে তেহরান স্বাগত জানাবে না।    

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জোটের দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের উদ্দেশে গত সোমবার ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন রাফায়েল গ্রসি। তিনি বলেন, গত বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কখনো কম ছিল, কখনো বেশি ছিল। তবে দেশটি এখন উচ্চহারে সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রেখেছে। ইরানে প্রতি মাসে ৭ কেজি ইউরেনিয়াম ৬০% বিশুদ্ধতার মাত্রা স্পর্শ করছে।  

পশ্চিমা বিশ্ব এবং আইএইএ দাবি করে, ইউরেনিয়াম ধাতুকে ৬০ শতাংশ মাত্রায় বিশুদ্ধতার অর্থ হচ্ছে, অস্ত্র উৎপাদনের গ্রেডকে স্পর্শ করা। ইরানের আগে কোনো দেশ বেসামরিক উদ্দেশে এত ব্যাপক মাত্রায় ইউরেনিয়াম পরিশুদ্ধ করেনি। 

গতকাল সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসলামি জানান, ব্যস্ত সূচির কারণে গ্রসিকে ইরানের আতিথেয়তা দেওয়া সম্ভব না। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আইএইএর সঙ্গে ইরানের মতবিনিময় স্বাভাবিকের মতো অব্যাহত রয়েছে এবং বিদ্যমান মতভেদের সমাধান এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনাও চলছে।’ অবশ্য গ্রসিকে আগামী মে মাসে তেহরান সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। ওই সময় ইরান প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সম্মেলন আয়োজন করবে।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সাবেক প্রধান আলি-আকবর সালেহি গত সোমবার বলেন, একটি পরমাণু বোমা তৈরির জন্য ইরানের হাতে যাবতীয় সব উপকরণই রয়েছে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আলি-আকবর সালেহি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন। টেলিভিশনে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি পরমাণু অস্ত্র তৈরি নিয়ে নানা কথা বলেন। উপস্থাপক তাকে জিজ্ঞেস করেন, ইরান কি পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে? ওই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব সীমা অতিক্রম করেছি। একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ধরুন, একটি গাড়ি তৈরি করবেন। এর জন্য চেসিস প্রয়োজন, ইঞ্জিন প্রয়োজন, স্টিয়ারিং চাকা দরকার; গিয়ারবক্সও প্রয়োজন। আপনি জিজ্ঞেস করছেন, আমরা গিয়ারবক্স তৈরি করেছি কি না। আমার উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ। আমরা কি ইঞ্জিন তৈরি করেছি; উত্তর হচ্ছে- হ্যাঁ।’ গাজা যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির আলোচনা ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ^কে আরও ভাবাচ্ছে। এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলায় পশ্চিমারা স্বস্তিতে নেই।  

আলি-আকবর সালেহির বক্তব্যকে ইঙ্গিত করে গ্রসি আরও বলেন, তেহরানের পরমাণু উচ্চাভিলাষ পূরণের সম্ভাবনা এখন সর্বকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ইরানের পরমাণু চুক্তির লাগাম টানতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া ও ফ্রান্স এবং তাদের সঙ্গে জার্মানি মিলে (পি৫+) ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)’ শীর্ষক চুক্তি করে। ওই চুক্তির আলোকে মাত্র ৩.৬৭ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করত ইরান। কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেয়। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন চুক্তিতে ফেরার কথা বললেও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে এ নিয়ে দর কষাকষির কারণে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। ওই সময়ের পর থেকে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়াতে থাকে। ইরান আইএইএর প্রতিনিধিদের চুল্লি পরিদর্শন করতে দিচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত