মফস্বল থেকে ক্যালিওগ্রাফিতে সফলতা স্বর্ণার

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৩১ এএম

পড়াশোনার পাশাপাশি এখনকার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন শৌখিন কাজে চমৎকার সফলতা দেখাচ্ছে। শুধু শহর নয়, মফস্বলে বসেও তাদের অর্জন দেখার মতো। শখের কাজ থেকে তাদের আয়ও মন্দ নয়। অনেকের পড়াশোনার খরচও চলছে এ আয়ে। শৌখিন কাজে সফলতা অর্জনকারীদের একজন মরিয়ম আক্তার স্বর্ণা। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়ার পাশাপাশি ক্যালিওগ্রাফি করেন তিনি। এই কাজে মাসে তার আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বাবা নেই, মা ও ছোট দুই ভাই নিয়ে তার পরিবার। এ পর্যন্ত শতাধিক ক্যালিওগ্রাফি করেছেন। যার বেশিরভাগই বিক্রি হয়ে গেছে।

ইচ্ছা ছিল মেডিকেলে পড়ার, কিন্তু সুযোগ হয়নি। তখন হতাশা ভর করে, হতাশা ভুলতে ক্যালিওগ্রাফি চর্চা শুরু করেন। তবে আগে থেকেই ক্যালিওগ্রাফির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। নিজে নিজে চর্চা করে শিখেছেন। সাহায্য নিয়েছেন ইউটিউবের। এক আয়াত, দুই আয়াত বাড়িয়ে সুরা, তারপর আয়াতুল কুরসি ও চারকুলসহ কাবাঘরের দরজার ক্যালিগ্রাফি করেন ধীরে ধীরে।

সুরা ইখলাস ক্যালিগ্রাফি করে ৭০০ টাকায় বিক্রি করেন। এটাই তার ক্যালিওগ্রাফিতে প্রথম আয়। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নিজের ক্যালিওগ্রাফি সম্পর্কে স্বর্ণা বলেন, ক্যালিওগ্রাফিতে একান্ত শখের বসে এসেছিলাম। এটা এক ধরনের নেশা বলা যায়। ক্যালিওগ্রাফি করলে মানসিক শান্তি আসে।

স্বর্ণার ফেসবুক পেজের নাম Hedayat. পড়াশোনার কারণে এখন সেভাবে সময় বের করতে পারেন না, মাসে ১০টার মতো ক্যালিওগ্রাফি করেন।

স্বর্ণার কাজগুলোর মধ্যে কাবাঘরের দরজা খুবই জনপ্রিয়। যেটা ক্যালিওগ্রাফি পেইন্টিং এক্সিবিশনে ১০ হাজার দাম হয়েছিল। ক্যালিওগ্রাফি ছাড়া তিনি পুরনো প্লেট, গাছের পাতা, কেকের বোর্ড, ম্যাচ, ফোনের কভার ইত্যাদিতে আর্টের কাজ করেছেন। শাড়ি, জামা, স্কার্প, বেডশিট ও পাঞ্জাবিতে হ্যান্ডপেইন্টে অসংখ্য কাজ করেছেন তিনি।

স্বর্ণার কাজ শিল্পপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। যে কারণে প্রচুর এক্সিবিশনে অংশ নেওয়ার ডাক আসে তার। তবে এ পর্যন্ত তিনি চারটি এক্সিবিশনে অংশ নিয়েছেন। যেগুলো হলো ওয়ে টু আর্টিস্ট ড্রিম, থার্ড ক্যালিগ্রাফি এক্সিবিশন, কেপিআর আর্ট এক্সিবিশন, ডট ইন্টারন্যাশনাল আর্ট এক্সিবিশন। এর মধ্যে ডট ইন্টারন্যাশনাল আর্ট এক্সিবিশনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাইকৃত ২০০ জন আর্টিস্টের কাজ প্রদর্শন করা হয়। যারা ক্যালিওগ্রাফি নিয়ে কাজ করতে চান, তাদের জন্য স্বর্ণার পরামর্শ হলো নতুন অনেকেই ক্যালিওগ্রাফি শেখার সময় আগেই আয়ের কথা চিন্তা করেন, এটা একদমই উচিত নয়। কারণ এটা অনেক ধৈর্যের কাজ। ফলে ধৈর্য নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া অক্ষরগুলো সম্পর্কে প্রথমে জ্ঞান থাকতে হবে, অক্ষরগুলো কীভাবে যুক্ত করতে হবে; সে বিষয়েও জ্ঞান থাকতে হবে। ক্যালিগ্রাফিতে রঙ সম্পর্কে ধারণা থাকাও জরুরি। শখের কাজের পথ যে সবসময় মসৃণ থাকে, এমন নয়। নানা রকম চ্যালেঞ্জ আছে। পড়াশোনার পর সময় পাওয়া যায় না। এটাই স্বর্ণার চ্যালেঞ্জ। তবে যতটুকু কাজ করেন, মনপ্রাণ উজাড় করেই করেন তিনি। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান স্বর্ণা। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি শেখানোর ইচ্ছেও আছে তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত