দেশে যুব শ্রমশক্তি ২ কোটি ৬৩ লাখ

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০১:৫০ এএম

কর্মক্ষমতার স্বর্ণযুগে বাংলাদেশ। দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম। ২০২৩ সাল শেষে শুধু যুব শ্রমশক্তি ২ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার। এক বছরের ব্যবধানে শ্রমশক্তিতে প্রবেশ করেছে প্রায় ৩ লাখ যুব জনগোষ্ঠী। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

১৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সী কর্মে নিয়োজিত এবং বেকার জনগোষ্ঠীর সমষ্টিকে শ্রমশক্তি বলা হয়। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, তাদের যুব শ্রমশক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। জরিপের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার জনগোষ্ঠী শ্রমশক্তির আওতায় রয়েছে।

সর্বশেষ জনশুমারির হিসাবে বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী ৪ কোটি ৭৫ লাখের কাছাকাছি, কিন্তু যুব শ্রমশক্তি মাত্র ২ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার; অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক যুবক শ্রমশক্তির বাইরে অবস্থান করছে।

দেশে প্রতি বছরই শ্রমশক্তি বাড়ছে। ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকে দেশে শ্রমশক্তি ছিল ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার। এক বছরের ব্যবধানে এই শ্রমশক্তি বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার। বর্তমানে ৭ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার শ্রমশক্তির মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুরুষ। ডিসেম্বর শেষে দেশে পুরুষ শ্রমশক্তি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার, যেখানে নারী শ্রমশক্তির সংখ্যা ২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার।

মোট শ্রমশক্তি যেমন বেড়েছে। দেশে যুব শ্রমশক্তিও বেড়েছে। বর্তমানে দেশে ২ কোটি ৬২ লাখ ৬০ হাজার যুব শ্রমশক্তির মধ্যে পুরুষ ও নারী প্রায় সমান। ডিসেম্বর শেষে যুবদের মধ্যে পুরুষ শ্রমশক্তি রয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার। একই সময়ে দেশে এ বয়সী নারী শ্রমশক্তি রয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৪০ হাজার।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে। বিদ্যুৎ, গ্যাসসংকট ও আমদানির ঋণপত্র খুলতে না পারার কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যারা টিকে আছে, তারাও কারখানা পুরো বন্ধ না করলেও শ্রমিক ছাঁটাই করছে। এর মধ্যে নিত্যনতুন প্রযুক্তির কারণেও শ্রমিকের চাহিদা কমছে। ফলে শ্রমিকরা কাজ হারাচ্ছেন বেশি। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুবশ্রেণির সংখ্যাও কম নয়।

যুব জনগোষ্ঠীকে সম্পদে পরিণত করার জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। কিছু প্রকল্প পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। সম্প্রতি তিন বছরে প্রায় ২৯ হাজার যুবককে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বেকার যুব সমাজকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্যে ৩ বছরে ২৮ হাজার ৮০০ যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এটি শেষ করতে চায়। এর নাম রাখা হয়েছে ‘দেশের ৪৮ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রকল্প’।

এ ছাড়া আরও বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যেমন যুব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি ও যুব কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধির নিমিত্ত বহুতল যুবভবন নির্মাণ করা হবে। ছয়টি জেলায় বিদ্যমান ৬টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প আরেকটি প্রকল্প। দেশের সব জেলায় পরিচালিত প্রাতিষ্ঠানিক আবাসিক ও অনাবাসিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একই ভেন্যুতে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে এর আগে ছয়টি জেলায় স্থাপিত আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ সমাপ্তকরণ ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করা এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আমাদের চেষ্টা করতে হবে শিল্প খাতে বেশি কর্মসংস্থান করে কোয়ালিটি অব জিডিপি কীভাবে বাড়াব। কেবল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করলেই তো হবে না, কীভাবে ভালো মজুরি দেওয়া যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। উৎপাদন খাতে আমাদের কর্মীদের শোভন কাজে নিয়োজিত করতে পারি, এর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। কাজে নিয়োজিত নেই (নিট) এমন জনগোষ্ঠী অনেক বড়। নারীদের কর্মসংস্থান মাত্র ৩৬ শতাংশ। এসব বিষয় বিবেচনায়, শ্রমশক্তির মানোন্নয়ন, উৎকর্ষ ও দক্ষতার দিকেই বেশি নজর দিতে হবে।

দেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২০ শতাংশে। আগের বছরের একই সময়ে দেশে বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে পুরুষদের বেকারত্বের হার কমেছে। পুরুষদের বেকারত্বের হার কমে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে নারীদের বেকারত্বের হার বেড়েছে। ডিসেম্বর শেষে নারীদের বেকারত্বের হার বেড়ে ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে এ বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

বিবিএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বেকার হলেন সেই সব ব্যক্তি, যারা গত ৭ দিনে কমপক্ষে ১ ঘণ্টাও কাজ করেননি, কিন্তু কাজের জন্য প্রস্তুত ছিলেন বা গত ৩০ দিনে মজুরির বিনিময়ে কোনো কাজ খুঁজেছেন।

তবে কেউ যদি একটি মুরগিও পালন করে থাকেন তাকে বেকার হিসেবে গণ্য করে না বিবিএস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত