গত ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল বাতিল করা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার
নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত আর্জি খারিজ করে দেয়। এর আগে পাকিস্তানের প্রভাবশালী শরিফ পরিবার এবং ভুট্টো পরিবারের নেতৃত্বাধীন দুটি দল আরও একবার দেশ শাসন করতে চূড়ান্ত ঐকমত্যের কথা জানায়। এর মধ্যে গতকাল ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান বলেন, তাদের কেন্দ্রে সরকার গঠনের অধিকার দেওয়া উচিত।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিষদ এবং তিন প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের পর পিটিআই এবং আরও কয়েকটি দল কারচুপির প্রতিবাদে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করছে। সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদার এক সাবেক কর্মকর্তা নির্বাচনের ফল বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। এতে তিনি আবারও নির্বাচন দাবি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি কাজি ফায়েজ ইসার নেতৃত্বে শুনানি শুরু হয়। সেখানে ওই পিটিশন বাতিল করে দেওয়া হয়।
অবশ্য রাওয়ালপিন্ডির কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা লিয়াকত আলি চাত্থা অভিযোগ করেছিলেন, প্রধান বিচারপতি নিজেই ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল জালিয়াতির ঘটনায় যুক্ত। চাত্থার অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওই অপকর্ম করেছেন। ওই কর্মকর্তা বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন। তার কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল আদালত পুনর্নির্বাচন দাবি করা কর্মকর্তার পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। শুনানির সময় ওই কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না আদালতে। এ সময় আদালত বলে, যে কর্মকর্তা নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালে কোর্ট মার্শাল হয়। কোর্ট মার্শাল হলে কেউ ব্রিগেডিয়ার পদ ব্যবহার করতে পারেন না।
আবেদনটি নাকচ করে দিয়ে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এটি কোনো ষড়যন্ত্র কি না, দেখতে হবে। কারণ পিটিশন দাখিলকারী ব্যক্তি আবেদন জমাদানের পর দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেন।
এদিকে কয়েক দিনের দর-কষাকষির পর অবশেষে পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে একমত হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ। সমঝোতা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হবেন পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি যিনি আগেও দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে ইসলামাবাদে জারদারির বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি সমঝোতার ঘোষণা দেন।
বিলাওয়াল জানান, আইনসভার উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদগুলো ভাগাভাগি করে নেবে দুই দল। তবে পিপিপি সরকারের মন্ত্রিসভায় যাবে না।
ওদিকে গতকাল পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলি খান বলেন, কেন্দ্র, পাঞ্জাব ও খাইবারপাখতুনখোয়ায় জনরায়ের কারণে তাদের সরকার গঠন করতে দেওয়া উচিত।
